পর্ব : ২২৬

শায়েস্তা খাঁ বাংলায় সুশাসন দিয়েছিলেন।
সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: ১৬৬৬। ২৭ জানুয়ারি। চট্টগ্রাম বিজয়ের সঙ্গে সঙ্গে পুরো বাংলাই মোঘল অধিকারে চলে গেল। মাঝখানে একটি বছর ১৬৭৮ থেকে ১৬৭৯ বাদ দিলে ২৪ বছর বাংলার সুবেদার ছিলেন শায়েস্তা খাঁ। বাংলায় তাঁর পদার্পণ ৬৩ বছর বয়সে। বাংলা শাসনে তাঁকে সাহায্য করতেন বি তাঁর যোগ্য ছয় পুত্র।

মমতাজ বেগম ছিলেন শায়েস্তা খাঁ- এর; বোন।
ইরানি বংশজাত ( আসফ খানের পুত্র মির্জা গিয়াস বেগ ইতিমাদউদৌল্লা-এর পৌত্র) শায়েস্তা খাঁ ছিলেন মোঘল রাজবংশের সঙ্গে যুক্ত। ইতিমাদদৌল্লার কন্যা নূরজাহান ছিলেন জাহাঙ্গীরের বেগম। শায়েস্তা খাঁ’ বোন বা মমতাজমহল ছিলেন শাজাহানের বেগম। অর্থাৎ কিনা শাজাহানের শ্যালক।

বাংলায় ওলন্দাজ বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে মৈত্রী স্থাপন করেন শায়েস্তা খাঁ।
শায়েস্তা খাঁ উপাধি। জাহাঙ্গীর তাঁর বি২১ তম রাজ্য অভিষেকে এই উপাধি দেন শায়েস্তা খাঁ’র আসল নাম ছিল মির্জা আবু তালিব। হিসেবমত সম্পর্কে আওরঙ্গজেবের মামা। ঐতিহাসিক সূত্র বলছে, শায়েস্তা খাঁয়েররাজত্বে বাংলার মানুষ মোটামুটি নিশ্চিন্তে ছিলেন। বাংলায় এসে প্রথমেই আরকানী ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের শায়েস্তা করতে শুরু করেন। নৌ সীমান্ত পাহারা দিতে ঢাকা ও যশোরে জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত কারখানা তৈরি করেন। শায়েস্তা খাঁ জানতেন নৌ চালনায় পর্তুগিজদের কুশলতার কথা। তাই চট্টগ্রামের পর্তুগিজদের কাছে চাকরি, পুরস্কারের লোভ দেখিয়ে নিজের নৌ বাহিনী শক্তিশালী করার কৌশল নেন। হুগলির ওলন্দাজ প্রধানকেও আমন্ত্রণ জানান।( চলবে)
