বেশ্যার বারমাস্যা

জাতক কাহিনীর বহু অধ্যায়ে গণিকা সমাজের কথা আছে।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : আলোচনা করছি বৈদিক যুগের সাহিত্য ও শাস্ত্রে গণিকা প্রসঙ্গ নিয়ে। ভারতীয় সমাজে প্রান্তবাসিনী গ্রন্থের লেখকদ্বয় সুরেশচন্দ্র বন্দোপাধ্যায় এবং রমলাদেবী যেসব তথ্য উল্লেখ করেছেন সেই ঋণ স্বীকার করেই এই নিবন্ধের সূচনা করছি। কনবের জাতকে’র ( ঐ ৩০-৪২) এক কাহিনী: – জনৈক দসুদুষ্কৃতীর দায়ে দণ্ডিত হয়ে বধ্যভূমিতে নীয়মান হলে বারাণসীর প্রসিদ্ধ গণিকা সামাতাকে দেখে তার প্রতি প্রেমাসক্ত হয় এবং নিস্ক্রয়মূল্য ও বিনিময়ে v অপর এক ব্যক্তিকে দিয়ে ঐ দস্যুর প্রাণরক্ষা করে।
লেখকদ্বয় লিখেছেন, সামা প্রিয় দসুর সঙ্গে সুখে কালযাপন করছিল। কিন্তু স্বভাবদুর্জন দস্যু মনে করল যে,অন্য প্রেমিক পেলে সামা তাকে হত্যা করবে। এই ধারণার বশবর্তী হয়ে সে একদিন উদ্যানে সামার প্রতি আক্রমণাত্বক ভালোবাসা দেখিয়ে তাকে অজ্ঞান করে রেখে তার গয়নাগুলি নিয়ে উধাও হয়ে যায়।

সামা কিন্তু প্রকৃত প্রেমিকার মতো বিরহিণী বেশে তার অন্বষণে তৎপর হ’ল। কিন্তু কোথাও তাকে না পেয়ে নিজের বৃত্তি বিসর্জন দিয়ে পূর্বজীবনে ফিরে গেল। দসু কর্তৃক সামার অত্যাচারের। যেন প্রতিধ্বনি পাই মৃচ্ছকটিকে সংস্থানক কর্তৃক বসন্তসেনার হত্যার প্রয়াসে। রবীন্দ্রনাথের লেখনী- আলেখ্যে শ্যামা অমর হয়ে আছেন। উক্ত কাহিনী পরিবর্তিত আকারে আছে ‘সুলসা জাতকে’ ( ঐ পৃষ্ঠা ২৬০)। এখানেও বারাণসীর খ্যাতনাম্নী গণিকা সুলসার দসুর প্রতি প্রেম। এক পর্বতে সুলসার অলংকারের প্রতি প্রলুব্ধ দসু তাকে হত্যা করতে উদ্যত হলে চতুর সুলসা শেষ আলিঙ্গনের ছলে দসুকে পর্বত শিখর b থেকে n নিশ্চিত মৃত্যুর কবলে ফেলে দিয়ে নগরে প্রস্থান করে।

মৃচ্ছকটিকে গণিকা চরিত্র বসন্তসেনা।

উক্কারিয় জাতকে বি( ঐ ৪, পৃষ্ঠা :১৬৭) বারাণসীর নগরশোভনী প্রখ্যাতা গণিকা কালীর অর্জিত প্রচুর বি অর্থ তার বি অপদার্থ চরিত্রহীন ভ্রাতা তুণ্ডিল উড়িয়ে দিত। কিছুতেই বোন ভাইকে ভি সামলাতে পারত না । একদিন তুণ্ডিল জুয়া খেলে সর্বস্বান্ত হয়ে ছেঁড়া কাপড়ে বাড়ী এলে কালীর আদেশে বাড়ী থেকে বিতাড়িত হয়। ( বানান অপরিবর্তিত) চলবে

পরবর্তী পর্ব আগামী ১১ মে সোমবার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *