বেশ্যার বারমাস্যা

যৌনবিকৃতি এক অসুস্থতা।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: যৌন বিকৃতির বিভিন্ন কারণের কথা মনস্তত্ত্ববিদরা বলে থাকেন। ছেলেবেলায় বাবা মায়ের কাছে অতিরিক্ত অবহেলা অমর্যাদা বা মারধর খেলে বিতৃষ্ণা জন্মায় । শৈশবে খেলার ছলে বা জোরপূর্বক কোনো বয়স্ক মানুষের হাতে ধর্ষিত হলে অথবা কৈশোরে বা যৌবনের প্রাক মুহূর্তে যৌনতায় বিফল হলে যেমন আক্রোশ তৈরি হয় নিজের ওপর , তারফলে জেদ চাপে যৌনতায় যেমন করেই হোক সফল হতে হবে। বিষয়টা ব্যক্তি অস্তিত্বের প্রশ্ন তৈরি করে দেয়। আবার অনেকক্ষেত্রে সামাজিক ঘনিষ্ঠতায় বারবার যৌন সম্পর্কের সুযোগ ঘটে গেলে সেটা নেশায় পরিণত হয়। তখন যৌনসঙ্গীর সম্মতীর্ট অপেক্ষা পর্যন্ত যৌন বিকৃতির শিকার ব্যক্তি করে না। অত্যাধিক মাদক সেবনেও যৌন বিকৃতি আসতে পারে।

সমকামীদের মধ্যেও যৌন বিকৃতি থাকতে পারে। তবে সমকামিতা যৌনবিকৃতি নয়।

এই বিকৃতির পরিসর একসময় অপরাধের পর্যায়ে চলে গেলে সমাজে সমাজবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যায় সাইট বিকৃতকামী মানুষেরা। এঁদের চিকিত্সার কথা প্রাধান্য পায় না। অথচ এই মানুষেরা জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে অতি স্বাভাবিক আচরণ করে। তবে অনেকক্ষেত্রেই দেখা গেছে এই বিকৃতকামী নারী বা পুরুষেরা পেশা নির্বাচনের ক্ষেত্রে এমন পেশা বেছে নেয় যেখানে যৌনতার একটা সম্পর্ক আছে। যৌনবিজ্ঞান বলে যৌনবিকৃত মানুষেরা তিনভাগে বিভক্ত। অল্পমাত্রা, মধ্যমাত্রা ও অধিকমাত্রা। অল্পমাত্রায় মানুষ বিকৃত যৌনতার শিকার হলেও সেই পদ্ধতি কখনও নিজেরা বাস্তবে গ্রহণ করে না। মধ্যমাত্রার মানুষ যৌনবিকৃত হলেও সুযোগমত যৌনবিকৃতির পরিচয় দেয়। আর অতিমাত্রার যৌনবিকৃতির মানুষ প্রতিনিয়ত শিকারের সন্ধানে থাকে। বলপ্রয়োগে পরিণত বয়সের কাছ থেকে বাধা আসতে পারে জেনে এদের নজর থাকে শিশুদের ওপর বিভিন্ন পশু বা বস্তুর প্রতিও এরা যৌন আসক্তি অনুভব করে।

আমেরিকান সংস্থা প্রতিবছর যৌনবিজ্ঞানের কনফারেন্স করে।

ভবিষ্যত জীবনে এদের সুস্থ বা স্বাভাবিক জীবনের ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে চিকিৎসাবিজ্ঞান এখনও সীমাবদ্ধতার মধ্যে আছে ।তবে কিছুকিছু ব্যবহারিক মনস্তত্ত্বের থেরাপি কাজে লাগছে। অনেকক্ষেত্রে যৌনতাদমনে এই ধরনের মানুষদের হস্তমৈথুনের পরামর্শ দেওয়া হয়। যৌন হরমোন কমিয়ে দেওয়ারও ওষুধ দেওয়া হয়। এদের মধ্যে যাদের উদ্বেগ ও বিষন্নতার প্রকোপ বেশি দেখা যায় তাদের কিছু ওষুধে দেওয়া হয়। এইসব তথ্য মিলেছে আমেরিকান একাডেমি অফ ক্লিনিক্যাল সেক্সলোজিস্ট ২০০৯ কনফারেন্সের আলোচনা থেকে। (চলবে)

পরবর্তী পর্ব আগামী সোমবার ,২৭ এপ্রিল ২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *