
✧
দিগদর্শন ওয়েব ডেস্ক : গুহাবাসী না মানুষ যেদিন থেকে পাহারের গুহার দেয়ালে প্রথম সন্তানসম্ভবা নারী বা বন্যপ্রাণী শিকারের ছবি দেয়ালে আঁকতে শুরু করল, সেদিনই চিহ্নিত হয়ে গেল বাসস্থানে অন্দরসজ্জার প্রথম দিন হিসেবে। বিশ্বজুড়ে জনসংখ্যা বাড়ছে। বাড়ছে না স্থলভূমি। সুতরাং একটাই লক্ষ্য । নীড় ছোট ক্ষতি নেই , আকাশ তো বড়। সামন্ততান্ত্রিক যুগে বিলাসবহুল বড় আকারের আসবাবে ঘর সাজানো হতো ধনীদের । দরিদ্রের ঘরে শুধু মাথার ওপর ছাদ। সাধ থাকলেও সাধ্য ছিল না আসবাবির ঘর সাজানো। দেয়ালে ছবি এঁকে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো হতো।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ধ্বংস করল প্রচুর। তেমনই নতুন চেতনারও বিকাশ ঘটালো। সাধ্যমত গৃহস্থ অন্দরসজ্জায় মন দিল। জল- জঙ্গল বিনাশ করে বসতি যেমন গড়ে উঠছে , প্রশ্ন উঠছে প্রকৃতি রক্ষা নিয়ে। পরিবেশ দূষণের জেরে দেহ ও মনে যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে সেখানে মনস্তত্ত্ববিজ্ঞান বলছে , পরিবেশবান্ধব পণ্য দিয়ে গৃহসজ্জা এন দিতে পারে মানসিক প্রশান্তি। যা জীবনের সহায়ক হয়। ঘরে পরিবেশবান্ধব বস্তু দিতে তৈরি আসবাব আর ইনডোর প্ল্যান্ট দিয়ে সাধ্যের মধ্যে ঘর সাজানো এখন অসম্ভব নয়। প্রয়োজন পরিকল্পনার। সেই পরিকল্পনার খোঁজ দিতে পারেন পেশাদার অন্দরসজ্জা শিল্পীরা। সেই শিল্পী নির্মাণের কাজটা করছে নিউ ইয়র্ক ইনস্টিটিউট অফ ফ্যাশন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি সল্টলেকের ভবনে তিনদিনব্যাপী এক অন্দরসজ্জার প্রদর্শনী হলো। প্রতিষ্ঠানের প্রায় সাড়ে তিনশ ছাত্রছাত্রীর নিজেরা বিভিন্ন মডেল নির্মাণ করে পরিবেশবান্ধব গৃহসজ্জার নমুনা পেশ করল। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কলকাতাস্থ রাশিয়ান কনস্যুলেট ক্যাটরিনা, স্থপতি আয়ান সেন। প্রতিষ্ঠানের ইন্টেরিয়র ডিজাইন বিভাগের প্রধান শ্রীময়ী ঘোষ বলেন, দীর্ঘ তিনমাসের পরিশ্রমে ছাত্রছাত্রীরা নিজেদেরকে সৃষ্টি তৈরি করে প্রদর্শনীতে যোগ দিয়েছেন। যেখানে শিল্পী মনের নিদর্শন ফুটে উঠেছে।
