
********
দিগদর্শন ওয়েব ডেস্ক: প্রতিবারের মতোই কলকাতা প্রেস ক্লাব নির্বাচনী পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানান সাংবাদিকদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার। প্রথামত বামফ্রন্টের পক্ষে মঙ্গলবার দুপুরে প্রেসক্লাবে এলেন সিপিআইএম দলের রাজ্য সম্পাদক মহ :সেলিম। ক্লাবের পক্ষ থেকে মোঃ সেলিমকে সম্বর্ধনা দেওয়া হয়। সঞ্চালনায় ছিলেন ক্লাব সভাপতি স্নেহাশিস সুর।
এই মুহুর্তের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আগামী নির্বাচনে তৃণমূল ও বিজেপি’র অপশাসনের বিরুদ্ধে বাংলা বাঁচাও আন্দোলনে বাম ও অসাম্প্রদায়িক দলগুলির যৌথ প্রার্থীদের সমর্থনের প্রাসঙ্গিকতা ও যৌক্তিকতার ব্যাখ্যা করলেন মোঃ সেলিম। প্রায় ১৫/ ২০ মিনিটের বক্তব্যে রাজ্য কেন্দ্র ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরলেন ,তেমন বাংলার বিকাশে বিজেপি ও তৃণমূল মেকি ঝগড়া তৈরি করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে স্বৈরাচারী শাসনের যে অপশাসন চালাচ্ছে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।
উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরও দেন মহ: সেলিম। তিনি বলেন,তৃণমূল আমলে গণতন্ত্র কুক্ষিগত করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ইলেক্টেড সদস্যের বদলে সিলেক্টেড সদস্যদের বসানোর হচ্ছে। প্রেসক্লাব পরিচালন কমিটি কিভাবে চলছে সেই প্রসঙ্গে তিনি বললেন বটে তাঁর জানা নেই। কিন্তু তাঁর কথার সুরে বুঝতে অসুবিধের হয় না , তিনি কোথায় হুল ফোটালেন।

দিগদর্শনের পক্ষে প্রশ্ন ছিল, হিন্দুত্বের মুখোশ পরে ব্রাহ্মণ্যবাদী মনু সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার কারণে যখন হিন্দু মহাসভা বা আর এস এস সৃষ্টি হলো, তখন এই সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল কমিনিস্টদের শ্রেণীশত্রু হিসেবে প্রতিহত করা। অথচ বাংলা ভাগের মুহূর্তে ১৯৪৭ সালের ২০ জুনের ঐতিহাসিক মুহূর্তে হিন্দুত্ববাদী বঙ্গসন্তান শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মধ্য কলকাতার শ্রদ্ধানন্দ পার্কের জনসভায় জ্যোতি বসু উপস্থিত থাকেন? ভারতে কেরলের প্রথম বাম সরকারের পতন ঘটাতে যে আর এসএস ও হিন্দু মহাসভার পরোক্ষ ভূমিকা ছিল সেই দলের নেতা অটলবিহারী বাজপেয়ীর সঙ্গে জ্যোতি বসু কলকাতার শহীদ মিনার ময়দানে হাতে হাত রেখে জনসভা করা কি ঐতিহাসিক ভুল নয়?
তৃণমূল বিজেপি নামক কুমির খাল কেটে নিয়ে আসার দায় শুধু তাঁদেরই না বামেদেরও কিছু দায় থেকে যায় না কি? এই প্রশ্নের উত্তরে মহ: সেলিম স্বাধীনতার আগে কমিউনিস্টদের অসাম্প্রদায়িক আন্দোলনের কথা বলেন, পরবর্তী সময়ে অটলবিহারী বাজপেয়ীর সঙ্গে হাত মেলানো সম্পর্কে বলেন , পরিস্থিতির প্রয়োজনের কথা। কিন্তু মহ: সেলিম যেটা বললেন না , জনসংঘ ছেড়ে কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা জনতা পার্টিতে নাম লেখায় সময়ের সঙ্গে সমঝোতা করে। সময়মত মুখোশ ছেড়ে বিজেপির উত্থান ঘটান। বামপন্থীরা যদি দূরদর্শী হন বি, তাহলে কি এই মানুষগুলোর সঙ্গে হাত মেলানোর আগে একবার ভাবতেন না?
আজ খাল কেটে কুমির আনার দায় শুধু তৃণমূলের নয়, বামপন্থীদেরও কিছুটা অবদান আছে।টাইট তৃণমুলের মত ডানপন্থী দল বা বামপন্থী দলগুলিকে প্রায়শ্চিত্ত করতে হচ্ছে।
