
আকবরের সময়ে বারো ভূঁইয়াদের যে বিদ্রোহ শুরু, তার রেশ চলে জাহাঙ্গীরের রাজত্ব পর্যন্ত।
সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : দিল্লির সিংহাসনে জাহাঙ্গীর। আকবর শব্দের অর্থ মহান , সর্বশ্রেষ্ঠ। জাহাঙ্গীর শব্দের অর্থ বিশ্বজয়ী শাসক। নুরুদ্দিন মহম্মদ সেলিম ওরফে জাহাঙ্গীর দিল্লির সিংহাসনে । সময়টা ১৬০০ খ্রিস্টাব্দ। জাহাঙ্গীর রাজত্ব করেন ১৬২৭ পর্যন্ত। ইতিহাসের এক সূত্র বলছে,আকবরের রাজত্বের শেষ সময়ে বাংলার বারো ভূঁইয়া প্রতাপাদিত্যকে তিনি আত্মসমর্পণ করাতে পারছিলেন না। প্রতাপাদিত্য বুঝেছিলেন,আকবরের ক্ষমতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পূর্বভারতের সব মোঘলবিরোধী শক্তিকে একজোট করতে হবে। সেপথে সফল হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন প্রতাপাদিত্য। মোঘল সম্রাটকে কর দেওয়া বন্ধ হয়। উল্টে যে ক’জন রাজস্ব পাঠাচ্ছিলেন সেই রাজস্ব লুঠ করেন প্রতাপাদিত্য ও তাঁর গোষ্ঠীর বিদ্রোহী রাজারা।

সম্রাট আকবরকে বারবার পরাজিত করেন বাংলার বারোভূঁইয়াদের অন্যতম প্রতাপাদিত্য।
মোঘল সেনাছাউনি ধ্বংস করাও ছিল এক কাজ। ফলে ক্রমশঃ বাংলায় মোঘল প্রভাব শেষ হতে শুরু করে। বারবার চেষ্টা করেও আকবর অসফল হন বাংলার রাজাদের পরাস্ত করতে। প্রতাপাদিত্যও বুঝেছিলেন খুব বেশিদিন বিদ্রোহ করে মোঘল সাম্রাজ্যের শক্তিকে রোখা যাবে না।যেকোনোর সময়ে সর্বশক্তি দিয়ে আকবর মরণ কামড় দেবেন। প্রতাপাদিত্য তাই মোঘলদের রুখতে সর্বশক্তি দিয়ে আক্রমণ করে বসলেন।

বড়িশার রাজবাড়ি ভগ্নাংশ।
আক্রমণ করলেন প্রথমে সপ্তগ্রামে। সপ্তগ্রাম ছিল তখন বাংলার সেরা ব্যবসায়িক নৌ বন্দর। ভাগ্যক্রমে জয় পেলেন। প্রতাপাদিত্য দ্বিতীয় আক্রমণের লক্ষ্য করলেন রাজমহল। দেশ ছাড়ার আগে রাজ্যের দায়িত্ব দিয়ে যান তাঁর দুই বিশ্বস্ত অনুচর ভবাণীদাস ও লক্ষ্মীকান্ত রায়কে। যিনি পরে বড়িশার রায়চৌধুরী জমিদারদের আদিপুরুষ হয়ে কলকাতা, সুতানুটি ও গোবিন্দপুরের জমিদারি কেনেন। রাজমহল ও পাটনা দুর্গ জয় করে প্রতাপাদিত্য তখন খ্যাতির শীর্ষে। (চলবে)
