পর্ব:২৩৫

দীনেশ সেন বৃহৎ বঙ্গ গ্রন্থের লেখক।
সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: প্রয়াত দীনেশ সেন তাঁর বৃহৎ বঙ্গ গ্রন্থে লিখেছেন, মুসলমান রাজা ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিরা সিন্ধুকি বা গুপ্তচর নিয়োগ করে সুন্দরী হিন্দু ললনাদের অপহরণ করতেন( পৃষ্ঠা ৬৫৩) । তিনি আরও লেখেন , ষোড়শ শতকে ময়মনসিংহ জেলার জঙ্গলবাড়ির এবং শ্রীহট্টের বানিয়াচঙ্গের দেওয়ানরা যে কত হিন্দু রমণীকে বলপূর্বক বিয়ে করেছেন তার ইয়ত্তা নেই। পল্লীগীতিকাগুলিতে এই তথ্যের বর্ণনা আছে।

চেঙ্গিস খাঁ।
এই তথ্যের উল্লেখ করেছেন সুরেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ও রমলাদেবী তাঁদের ভারতীয় সমাজের প্রান্তবাসিনী গ্রন্থের ২৬৯ পৃষ্ঠায়। লেখকদ্বয় লিখেছেন, এই দেশে মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ ছিল ত্রয়োদশ শতকে চেঙ্গিস খাঁ মধ্য এশিয়ার তুর্কি মুসলমানদের রাজ্য এবং বাখারা বি, সমরখন্দ প্রভৃতি ইসলাম ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রধান ঘাঁটিগুলিকে ধ্বংস করেন।

ভারতে তুর্কি আক্রমণে প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী।
এরফলে এই সব অঞ্চলের পলাতক লোকেরা দলে দলে ভারতে তুর্কি মুসলমানদের রাজ্যে শরণার্থী হয়। পরে তাদের মধ্যে অনেকে এই দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করে এবং স্থানীয় শাসনকর্তারা বহিরাগতদের মধ্যে জ্ঞানী গুণী দেখে অর্থ ও সম্মান দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেন। পরে দিল্লিতে তুর্কি রাজবংশের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ও রাজবংশের পতনের ফলে বিতাড়িত বহু তুর্কি সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিরা এই দেশে আশ্রয় গ্রহণ করেন। (চলবে)
