বেশ্যার বারমাস্যা

পর্ব:২৩৪

সুলতান জালালউদ্দিন।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: বাংলায় মুসলিম ধর্মের প্রসার ছিল ব্যাপক। কিছু নিম্নশ্রেণীর হিন্দু উচ্চশ্রেণীর নিপীড়ন এবং দারিদ্র্যের মাত্রা সইতে না পেরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিল। পর্তুগিজ পর্যটক বারবোসা (১৫৬০) লিখেছেন রাজা গণেশের পুত্র যদু রাজ্যলোভে স্বধর্ম বর্জন করে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়ে জালালউদ্দিন নাম নিয়ে বাংলার সিংহাসনে আসীন হন। সময়টা ছিল ১৪১৫-১৬। রাজার অনুগ্রহ লাভের আশায় প্রতিদিন দলে দলে হিন্দুরা মুসলিম ধর্মে দীক্ষিত হতে থাকে না। অনেকক্ষেত্রে খাদ্যের অভাবে স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় মুসলিম স্পর্শ খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করায় উচ্চ শ্রেণীর হিন্দুর নিদানে সমাজ পরিত্যক্ত হতো।

সুলতানী আমলে ফকির দরবেশ।

কোন নারীকে মুসলমান স্পর্শ করলে সে এবং তাঁর পরিবার ও আত্মীয়রা পতিত হত। হিন্দু সমাজে পরিত্যক্ত হওয়ায় অস্তিত্ব বাঁচাতে তাঁরা বাধ্য হতো মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করতে। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে দারিদ্র্যের জ্বালায় অশান্ত মনে বাঁচার স্পৃহায় ফকির দরবেশের শান্তির বাণীতে আশ্বস্ত হয়ে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করে। জোর করে মুসলিম ধর্মে রূপান্তরের কাহিনীও আছে এ

কবি বৃন্দাবন দাস।

১৬ শ শতকের শেষে স্বরূপ বংশীদাসের মনসা মঙ্গল কাব্যের দুটি পক্তি উল্লেখনীয়। ব্রাহ্মণের জাতিনাশ করিবার ছলে। কর্ণেতে কলিমা পড়ে যবন সকলে।। হিন্দুদের ওপর মুসলিম অত্যাচারের কিছু উল্লেখ আছে কয়েকটি বাংলা গ্রন্থে।

হিন্দু মন্দিরধ্বংস ,ধর্মানুষ্ঠান পন্ড করা, ইত্যাদি বিষয়ে তৎপর ছিল কিছু সুযোগসন্ধানী মুসলিম। বৃন্দাবন দাসের ভি(১৫০৭) চৈতন্যভাগবত ( ২৩ অধ্যায়) বিজয়গুপ্তের (১২০০ শতাব্দীর শেষ ) মনসামঙ্গল ভারতচন্দ্রের (১৮ শ শতাব্দীর মধ্যভাগ) অন্নদামঙ্গল প্রভৃতি কাব্যে এই মুসলিম অত্যাচারের বর্ণনা আছে।
(চলবে)

পরবর্তী পর্ব আগামী শুক্রবার ১৭ জুলাই ,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *