শিরোনাম

বাঙালির ইতিহাস ও বহিরাগত তত্ত্ব

পর্ব : ২২৯

মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর তাঁর আত্মজীবনীতে বাংলার দাসপ্রথার উল্লেখ করেছেন।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : ক্রীতদাস সম্পর্কে মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের তাঁর আত্মজীবনীতে লিখে গেছেন, বাংলার সিলেটে কিছু মানুষের কাজ ছিল দারিদ্রতার কারণে ভরণপোষণে অপারগ হলে নিজেদের পুরুষ সন্তানদের নপুংসক বানিয়ে রাজস্বের পরিবর্তে রাজ্যের শাসকদের হাতে ফুলের দিত। আমি এই জঘন্য প্রথা বন্ধ করে দেওয়ায় সমস্যা কিছুটা কমে।শুধু ওপার বাংলা নয়, ফরাসি দখলে থাকা চন্দননগর, হুগলি ও ত্রিপুরায় দাস প্রথার দলিল দস্তাবেজ উদ্ধার হয়েছে।

শ্রী কৃষ্ণ চৈতন্য চরিতামৃতে দাসপ্রথার নিয়ম বর্ণিত আছে।1

বৃটিশ অধিকৃত বাংলায় শোষণের মাত্রা এতই বেড়েছিল যে খাদ্য রপ্তানি হতো বেশি। দেশের মানুষের খাদ্য ক্রয়ের সামর্থ্য ছিল না বাধ্য হয়ে কৃষি দাস হিসেবে পুরুষ সন্তানদের কৃষকেরা বিক্রি করে দিত। বাংলা সাহিত্য শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য চরিতামৃতে লেখা হয়েছে, নাহা, লাহা লবণ বেচিবে ব্রাহ্মণে, কন্যা বেচিবেক যে সব শাস্ত্র জানে। মোলুয়া কাব্যের লেখা হয়েছে, ফুলের ছেহলগ বান্ধা দিয়া কীর্ষান খায় ভাটপানি। অথচ আমাদের বাংলার বৃটিশ অনুগ্রহে লালিত পালিত ঐতিহাসিকেরা এই সব তথ্য চেপে গেছেন ।

আওরঙ্গজেবের নাতি মুহাম্মদ আজিমউদ্দিন।

শায়েস্তা খাঁ ৮১ বছর বয়সে সুবেদারি পদ থেকে অবসর নিয়ে ঢাকা ছেড়ে চলে যান সেদিন রাশিয়ার এই হাতারস্থানের মানুষটিকে বিদায় জানাতে ঢাকার রাস্তায় ভিড় করেন হাজার হাজার হিন্দু মুসলিম প্রজা।১৬৮৮ তে শায়েস্তা খাঁ’র মৃত্যুর পর খান -ই -জাহান বাহাদুর ইব্রাহিম খান ও আওরঙ্গজেবের নাতি আজিমুদ্দিন বাংলার সুবেদার হন। কিন্তু সে ইতিহাস তেমন উল্লেখযোগ্য না হওয়ায় ইতিহাসে স্থান পায়নি।( চলবে )

পরবর্তী পর্ব আগামী শনিবার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *