শিরোনাম

বাঙালির ইতিহাস ও বহিরাগত তত্ব

রাজা ভবানন্দ মজুমদার।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: ১৬০৬ খ্রিষ্টাব্দে দিল্লির শাহানশাহ জাহাঙ্গীরকে খুশি করে ১৪ টি পরগণার সনদ আদায় করেন সঙ্গে রাজা উপাধির। রাজা হয়েই ভবানন্দ বাগোয়ান থেকে মাটিয়ারিতে রাজধানী স্থানান্তরিত করেন। পরে নদীয়া জেলার রেউই গ্রামে রাজধানী নিয়ে যান। এই গ্রামে ছিল বহুত গোয়ালার বাস। বিখ্যাত ছিল দুই মিষ্টি। সরভাজা ও সরপুরিয়া। আজও সেই ট্র্যাডিশন চলছে।

কৃষ্ণনগরের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ভবানন্দের সপ্তম পুরুষ।

এই গ্রামেই ভবানন্দের বংশধর রাঘবপুত্র রুদ্র রাজা হয়ে গোয়ালাদের আরাধ্য দেব শ্রীকৃষ্ণের নামে নগরীর নামকরণ করেন কৃষ্ণনগর। এই বংশেরই রাজা হন কৃষ্ণচন্দ্র। ভবানন্দ কানুনগো ওরফে মজুমদার ১৪ টি পরগণার সনদ নিয়ে রাজত্ব করেন ১৬২৮ সাল পর্যন্ত। সপ্তম পুরুষ রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রাজত্ব করেন ১৭২৮ থেকে ১৭৮২ পর্যন্ত । মাত্র ১৭ বছর বয়সে রাজা হন হন কৃষ্ণচন্দ্র। তাঁর রাজসভায় সভাকবি ছিলেন ভারতচন্দ্র, সাধক রামপ্রসাদ সেন। জনপ্রিয় বিদূষক গোপাল ভাঁড়। অবশ্য গোপালের বাস্তব অস্তিত্ব ছিল কি না তা নিয়ে বিতর্ক আছে। এই সব তথ্য মেলে ডি এল রায়ের পিতা দেওয়ান কার্তিকের চন্দ্র রায়ের লেখা ক্ষিতীশবংশাচরিত্রবলীচরিত্র গ্রন্থে ।

জাহাঙ্গীর মানসিংহকে অবসর দিয়ে সেনাপতি করেন কুতুবউদ্দিন শাহকে

তবে এই বিষয়ে অন্যমতও আছে। মোহিত রায় সম্পাদিত কুমুদনাথ মল্লিকের সম্পাদিত নদীয়া কাহিনীতে লেখা হয়েছে মানসিংহ- প্রতাপাদিত্য যুদ্ধ কাহিনী ইতিহাসিদ্ধ নয়। কেননা আকবরের মৃত্যুর পর জাহাঙ্গীর সম্রাট হওয়ার কিছুদিনের মধ্যে মানসিংহকে সেনাপতি পদ থেকে সরিয়ে কুতুবউদ্দিন খাঁকে বহাল করেন। মানসিংহ পদ হারানোর পর আর বাংলায় তিনি আসেননি। ১৬০৯ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন বাংলার সুবেদার ইসলাম খাঁ’র বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে পরাজিত হন ও বন্দী হন। তারপর? (চলবে)

আগামী পর্ব , রবিবার ৭ জুন,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *