
জৈন সাহিত্যে নর্তকী।
সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: সুরেশচন্দ্র বন্দোপাধ্যায় ও রমলাদেবী লেখকদ্বয় তাঁদের ভারতীয় সমাজে প্রান্তবাসিনী গ্রন্থে জৈন সাহিত্যে গণিকা প্রসঙ্গে লিখেছেন, সমাজ নেতারা জনসাধারণের নীতিবোধ জাগ্রত রাখার জন্য সচেতন ছিলেন। তারা জারের নর্তকীদের প্রতি আকৃষ্ট না হয়, সেই জন্য ব্যবস্থা ছিল নর্তকীরা এমনভাবে সজ্জিত হবে যেন তাদের দেহের কোন কামোদ্দীপক অঙ্গ দর্শকদের দৃষ্টিগোচর না হয়।

জৈন সাহিত্যে নর্তকীদের জন্য কিছু নির্দেশিকা ছিল।
এই প্রসঙ্গে বৃহৎকল্পসূত্রভাষ্য (৪/৪১২৭) উল্লেখ্য। রায়পসেনীয় সূত্র ( পৃষ্ঠা ১২৩-১২৪) থেকে জানা যায় যে, কোন উপলক্ষ্যে নর্তক -নর্তকীরা যখন সম্মিলিতভাবে নেচেছিল, তখন তাদের পোষাক-পরিচ্ছদ শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করেনি। আনুমানিক খ্রিস্টীয় প্রথম শতকের বাসুদেবাহিন্ডি’তে পূর্বোক্ত বৃহৎকথাশ্লোকসংগ্রহে’র ভারতের কাহিনীর রূপান্তর লক্ষিত হয় সমাজে কাম রূপ পুরুষার্থের যে গুরুত্ব ছিল , তাবোঝা যায় এই প্রশ্নের একটি জায়গা থেকে। এতে আছে যে, এক ধনী পিতা পুত্রকে গোষ্ঠীতে পাঠাচ্ছেন কামকলা ও অন্যান্য শিল্প বিষয়ে জ্ঞান লাভের জন্য।

প্রাচীন যুগের ভারতের গণিকা সমাজ সম্পর্কে বিদেশি পর্যটকদের তথ্য ঐতিহাসিকতথ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
বৈদেশিকদের ভারত বিবরণ থেকে জানা যায় ভারতীয় সমাজে নারীর স্থান ও গণিকাঁদের স্থান সম্পর্কে তাদের কিছু পর্যবেক্ষণ আছে। অনেক ক্ষেত্রে গ্রন্থনির্ভরতা না থাকলেও লেখমালার সাক্ষ্য প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তবে সেসব লেখমালা সাহিত্যে কিছু অতিরঞ্জন অতিশয়োক্তি স্বাভাবিক কিন্তু লেখমালার কিছু তথ্য যে ঐতিহাসিক তথ্য সে প্রমাণও মিলেছে। সেযুগে অর্থাৎ জৈন সাহিত্যে গণিকার ছলা-কলা, চরিত্র নির্মাণ ও সাজসজ্জা কেমন হবে সেগুলি কতটা পুরুষের আকর্ষনের জন্য দরকার সে বিষয়ে আলাদা পাঠক্রম রচিত হয়েছিল। (চলবে)
