শিরোনাম

বেশ্যার বারমাস্যা

শিল্পীর কল্পনায় গণিকা দেবদত্তা।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: উজ্জয়িনীর সুপ্রসিদ্ধ গণিকা দেবদত্তা ধনী বণিক অচলের প্রেমকে পদদলিত করেছিলেন; কারণ তিনি দুঃসাহসিক মূলদেবকেগভীরভাবে ভালোবাসতেন। তিনি রাজাকে অনুরোধ করে বলেন, যেন তাঁর ওপর কোন পুরুষকে চাপিয়ে না দেন, কারণ তিনি একমাত্র মূলদেবের প্রেমিকা হিসেবেই থাকতে চান।

জৈন গ্রন্থে গণিকাদের পোশাকের বিবরণ আছে।

এই প্রসঙ্গে লেখকদ্বয় সুরেশচন্দ্রবন্দোপাধ্যায় ও রমলাদেবী তাঁদের ভারতীয় সমাজে প্রান্তবাসিনী,,,, গ্রন্থে লিখেছেন, গণিকাদের রাজা এত সম্মান করতেন যে, দেবদত্তাকে রাজধানীর রত্ন আখ্যা দিয়েছিলেন। সেযুগে এমন রত্ন বহুত নগরীর থাকত। বিভিন্ন জৈন গ্রন্থে গণিকাদের সম্বন্ধে উল্লিখিত তথ্য ছাড়াও নানা তথ্য সংযোজিত হয়েছে। জৈনদের রায়পসেনীয় সূত্রে নৃত্যকলাভিজ্ঞ নর্তকনর্তকীদের তথ্য আছে। মহাবীরের সামনে নটনটীরা বত্রিশ ধরণের ভঙ্গীতে নাচতেন। যেমন অধোবাস, নানা ধরনের কটিপট্টিক, উত্তোরিওর, গলায় মালা, গায়ে বিবিধ অলঙ্কার। এসব নর্তকদের পোশাক ও ভূষণ। নারীদের অর্থাৎ নর্তকীদের শৃঙ্গারে ছিল ললাটের তিলক, অঙ্গে অলঙ্কার, গলায় রত্নহার, বুকে রংবেরঙের স্তনপট্ট।

জৈন সন্নাসিনীদের নির্দেশ থাকত সাধারণ পুরুষদের থেকে দূরত্ব রাখতে।

লেখকদ্বয় লিখেছেন,সমাজে পতিতাবৃত্তি এত ব্যাপক ছিল , তার অন্যতম প্রমাণ বহু জৈন গ্রন্থে গণিকা সম্পর্কে জৈন সন্ন্যাসিনীদের প্রতি সতর্কবাণী। গণিকাসক্ত পুরুষদের থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া আছে। সেই সময়ে পুরুষেরা ফুলে অলঙ্কারে ও আকর্ষণীয় পোশাকে গণিকালয়ে গল্পগুজব যেমন করত যৌনসম্ভোগ করতেন। গণিকারা কখনও কখনও জৈন সন্ন্যাসীদের বাসস্থানে গিয়ে প্রলোভন দেখাতো।আকৃষ্ট করার চেষ্টার করতে যৌনতার জন্য। সন্ন্যাসীরা এদের নিরস্ত্র না করতে পারলে স্থান ত্যাগ করতেন। এমনও নাকি হতো যে সন্ন্যাসীরা অনেক ক্ষেত্রে এই গণিকাদের নিরস্ত্র না করতে পারলে সারারাত বেঁধে রাখতেন। সকালে ছেড়ে দিতেন। (চলবে)

পরবর্তী পর্ব আগামী সোমবার, ১ জুন, ২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *