✧

অগ্নিপুরাণ গ্রন্থে তাঁকে দক্ষিণ প্রান্তের অধিপতি বলা হয়েছে।চালুর বাংলাতেও বলা হয় যমের দক্ষিণদুয়ার।
সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : এই পর্বে ফিরে যাবো খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে। শুনলে অবাক লাগবে সেযুগে গণিকা ও রূপাজীবীদের মধ্যে পার্থক্য ছিল। এই তথ্য সংগ্রহে আমি সাহায্য নিয়েছি সুরেশচন্দ্র বন্দোপাধ্যায় এবং রমলাদেবী লিখিত ভারতীয় সমাজে প্রান্তবাসিনী গ্রন্থ থেকে। লেখকদ্বয় লিখেছেন, গণিকাদের নিয়ন্ত্রণ করত রাষ্ট্র। গণিকাধ্যক্ষ নামের উচ্চ পর্যায়ের রাজকর্মচারীরা গণিকা সংক্রান্ত বিষয় দেখাশোনা করত। রূপাজীবীদের আশ্রয় স্থান ছিল রাজ প্রাসাদের পরিচারিকা হিসেবে। তাদের জন্য বাসস্থান নির্দিষ্ট ছিল নগরের দক্ষিণ প্রান্তের শেষ সীমানায়। কারণ অগ্নিপুরাণ মতে দক্ষিণপ্রান্ত্বের অধিদেবতা যমরাজ।

বৈদিকযুগে রাষ্ট্র পরিচালকদের ব্যক্তিগত রক্ষিতা রাখার প্রচলন ছিল।
গণিকাবৃত্তি বা গণিকাগমনের পাপ সূচিত হয় দক্ষিণ প্রান্তে তাই গণিকাদের অবস্থান নির্দিষ্ট হয়।মহাভারতের উল্লেখ আছে রক্তবর্ণ পরিচ্ছদ , মালা, স্বর্ণালংকার ধারণ করলে বারবণিতা গমনে কোনও দোষ হয় না। তবে এই রূপসজ্জা না করে গণিকাদ্বার অতিক্রম করলে মৃত্যু হয় আয়ু কমে যাওয়ায়। সেযুগেও রাজার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সৈনিকদের মনোরঞ্জনের জন্য তাদের দৈহিক যৌনক্ষুধা মেটানোর জন্য সৈন্য শিবিরের পাশে রূপা জীবিদের রাখার ব্যবস্থা থাকত। অনেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্র পরিচালকদের ব্যক্তিগত রক্ষিতা রাখারও প্রচলন ছিল।

প্রাচীন যুগে গণিকা ব্যবসা স্বীকৃত ছিল।
অনেক ব্যবসায়ী অন্যান্য পণ্যের মত গণিকাদের নিয়ে ব্যবসাও করত। কৌটিল্যের আমলে এই ব্যবসায়ীদের গণিকা ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থের একটা অংশ কর হিসেবে রাজকোষে জমা করা ছিল বাধ্যতামূলক। রাজা যদি দেখতেন পারিষদবর্গের মধ্যে প্রতিযোগিতা হলে এই গণিকাদের দিয়ে সংঘ প্রধানদের মধ্যে ঝগড়া বাঁধিয়ে দিতেন। ফলে রাজ কর্মচারীরা যৌথ ভাবে থাকতে না পারায় বিদ্রোহের সুযোগ ছিল না। (চলবে )
আগামী পর্ব ১ মে, শুক্রবার ,২০২৬

