বাঙালির ইতিহাস ও বহিরাগত তত্ত্ব

ষড়যন্ত্র করে বিদ্রোহী কেদার রাজার মুণ্ডুচ্ছেদ করেন মানসিংহ।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : কেদার রাজার মৃত্যু নিয়েও বিভিন্ন মত আছে। কেউ বলেন, মোঘলদের বিরুদ্ধে তিনবার জিতলেও চতুর্থবারে কামানের গোলায় নিহত হন কেদার রায়। কেউ বলেন, মোঘলদের সঙ্গে চতুর্থবারের যুদ্ধের দশম দিনের সকালে v কেদার রায় তাঁর ইষ্টদেবী ছিন্ন মস্তার পুজো করেছিলেন ধ্যানস্থ হয়ে। সেই সময় গুপ্তঘাতককে দিয়ে তাঁর মুণ্ডচ্ছেদ করেন আকবরের সেনাপতি মানসিংহ।

বারোভুঁইয়া মোঘলদের বিরুদ্ধে জোট বাঁধলেও নিজেদের মধ্যে সমন্বয় ছিল না। না হলে বাংলার ইতিহাস অন্যরকম লেখা হতো। পদ্মানদীর তীরে টোল, পাঠশালা, মন্দির, কারাগার, কোষাগার, সেনাছাউনি বানালেও বন্যায় যা ভেসে যায়। তাই ঐতিহাসিক সূত্র বলছে, তখন থেকেই পদ্মার নাম হয় কীর্তিনাশা। কেদার রায় ও মানসিংহের যে শুধু সম্মুখ সমর হতো তা নয়। পত্রযুদ্ধও হতো।

বাংলার বারোভূঁইয়া।

এমন এক পত্রযুদ্ধ উল্লেখ্য। বাংলা অভিমুখে মোঘলসেনার যাত্রা শুরুতে আগে দূত মারফত একটি তলোয়ার ও একটি শৃঙ্খল পাঠান প্রতীক হিসেবে। সঙ্গে একটি চিঠি। চিঠিতে লেখা হয়েছিল ত্রিপুর মগ বাঙ্গালি, কাক কুলী চাকালি সকল পুরুষ মেতং, ভাগি যাও পলায়ী হ গজ নর নৌকা কম্পিত বঙ্গভূমি, বিষম সমর সিংহ মানসিংশ্চয়াতি। যার অর্থ যুদ্ধক্ষেত্রে সিংহের ন্যায় আসছেন মানসিংহ।

সে চিঠির উত্তর দেন কেদার রায়। লিখলেন ভীনতি নিত্যং কবিরাজের কুম্ভং বিভর্তি বেগং পবনাতিরেকং করতি বাসং গিরিরাজ শৃঙ্খে তথাপি সিংহ: পশুবের নান্য: যার অর্থ বায়ুর চেয়ে বেশি বেগ সিংহের হস্তী মুণ্ডকেও ভঙ্গ করতে পারে। পাহাড়ের চূড়ায় থাকে। তবু সর্বশেষে সিংহ এক পশু। সুতরাং শৃঙ্খল সিংহের গলায় পরায় মানুষ। ফলে আকবর ও মানসিংহ বুঝে যান বাংলার এই রাজা আত্মসমর্পণ করবেন না। ফলে ষড়যন্ত্র করেই কেদার রাজাকে হত্যা করা হয়। (চলবে)

পরবর্তী পর্ব আগামী ২ মে, শনিবার,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *