বেশ্যার বারমাস্যা

দশরথের তিন নয়, মোট স্ত্রী ছিলেন তিনশ একান্ন।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: এবার একটু পৌরাণিক সাহিত্যে বেশ্যা কতটা স্থান পেতো সেটা দেখা যাক। রামায়ণে যে যুগের বর্ণনার দেওয়া হয়েছে সেই কালে সমাজে কন্যা পিতামাতার দুঃখের কারণ ধরা হতো। আমরা জানি রাজা দশরথের কন্যা ছিলেন শান্তা। যেহেতু দশরথ বহু চেষ্টাতেও পুত্র সন্তানের জন্ম দিতে পারেন নি, সেক্ষেত্রে তো কন্যাকে রাজ্যের উত্তরাধিকারী করা সমাজ বিরুদ্ধ, তাই কৌশন্যার বোনকে শান্তা দত্তক দিয়ে দেন।

লঙ্কা জয়ের পর রামচন্দ্রের অযোধ্যায় আগমনে স্বাগত জানায় প্রথম নগরের গণিকারা।

সীতার জন্মবৃত্তান্তও রহস্যে ঘেরা। রামচন্ডের দুই পুত্র। লব কুশ। ভাইদেরও সবার পুত্র। অথচ রামায়ণে গণিকাদের বহ ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। সে যুগে নগরে ছিল সরাইখানার মত পানভূমি। সেখানে মিলত গণিকা। আজও হোটেলে কলগার্ল যেমন মেলে। রামায়ণ সমাজে অনার্য নিম্নবর্ণের মধ্যে অসংযত যৌনতার উল্লেখ আছে। এই তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করতে রাবণের সীতা হরণের গল্প যুক্ত হয়। সেযুগের রাজাদের বিনোদনের জন্য ফুল ফল শোভিত উদ্যান থাকত। সেখানে নাচে গানে যৌনতায় গণিকারা রাজা ও রাজার প্রিয়জনদের চিত্ত বিনোদন করত সেযুগে গণিকা অভিনীত নাট্যদল ছিল।

রামায়ণে নারীর সতীত্ব বিষয় ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তাই বারবার সীতাকে অগ্নিপরীক্ষা দিতে হয়।

রামায়ণে একদিকে যেমন বিয়েকে সাম্মানিক বিধান হিসেবে মান্যতার ছিল, তেমন বহু বিবাহেরও স্বীকৃতি ছিল।রামচন্দ্রের পিতা দশরথের তিন স্ত্রীর কথা উল্লেখ থাকলেও বাল্মীকি লিখেছেন দশরথের তিনশ একান্ন স্ত্রী ছিল। অবশ্য সকলেই যে স্ত্রীর মর্যাদা পেতেন এমন নয়। রক্ষিতা হিসেবে বিবেচিত হতেন তাঁরা। অসতী হিসেবে সমাজ যখন সীতাকে অগ্নি পরীক্ষায় বারবার ফেলে , রাজা রামচন্দ্র মেনের নিতে বাধ্য হন। ব্রাহ্মণ্যবাদী দাপট এমনই ছিল। রামের রাজ্যাভিষেকে গণিকাদের মনোরঞ্জনের জন্য আহবান করা হয়। রাবণ বধের পর অযোধ্যায় রাম চন্দ্র ফিরলে প্রথম স্বাগত জানায় গণিকারা। (চলবে)

পরবর্তী পর্ব , আগামী সোমবার ৪ মে ,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *