
বৌদ্ধজাতক কাওয়েল জাতকে গণিকা ও নর্তকীদের উল্লেখ আছে।
সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : রামায়ণ , মহাভারত ছাড়াও বৌদ্ধ সাহিত্যে যা পালি ভাষায় ও সংস্কৃত ভাষার গ্রন্থে গণিকা সম্বন্ধে বেশ কিছু তথ্য আছে। সেই সব গ্রন্থে রাজা ছাড়াও অন্যন্য বণিক প্রভৃতি ধনাঢ্য ব্যক্তিগণের ভোগ্যা ছিল। রাজান্ত:পুর বিলাসিনী বারনারীরা পুরুষানুক্রমে রাজ পরিবারের লোককে দেহদান করত। খন্তিবাদি জাতকে কাওয়েলের জাতক ,৩,১৯৫৭, পৃষ্ঠা ২৬) রাজাকে উদ্যানে নৃত্যগীতপরায়ণ নর্তকীদের সঙ্গে বিহার করতে দেখা যায়।

বৌদ্ধ সাহিত্য মহসারজাতকেও গণিকাদের কথা উল্লেখ আছে।
রাজা ছাড়াও বারবণিতাকে ভালোবাসার লোক ছিল, তার প্রমাণ মহাসারজাতক ( কাওয়েল,১, পৃষ্ঠা ২২৫)। এতে আছে যে, প্রধান সাঙ্গীতিক একগাছি হার এক গণিকাকে উপহার দিয়েছিলেন। আর এক জাতকে ( ঐ, পৃষ্ঠা ২৬১) চিত্তহারিণী বারবিলাসিনীর সঙ্গে আমাদের দেখা হয়। জনৈক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির তরুণ পুত্রের প্রলোভনার্থে সে প্রেরিত হলে ব্যর্থকামা হয়ে প্রত্যাবর্তন কালে পুরুষান্তর কর্তৃক স্বগৃহে নীতা হয়। এদিকে সেই বেশ্যা গৃহে প্রত্যাবর্তন না করায় উক্ত তরুণকে অভিযুক্ত করা হয়। রাজাদেশে রাজপুরুষের কাছে নিজের পরিচয় দিয়ে তরুণের প্রাণরক্ষা করে। হয়ত এই কাহিনীই শূদ্রকের মৃচ্ছকটিকে’র প্রেরণা দিয়েছিল কিনা কে জানে?

পালিভাষার বৌদ্ধ পুঁথি
এই তথ্য স্বীকার করতে হয় ভারতীয় সমাজে প্রান্তবাসিনী ,,,, গ্রন্থের লেখকদ্বয় সুরেশ চন্দ্র বন্দোপাধ্যায় ও রমলাদেবীর কাছে। লেখকদ্বয় আরও লিখেছেন গামণি চণ্ডজাতকে ( ঐ ২। পৃষ্ঠা ২১১) বৃত্তিকর্শিতা নামে এক গণিকার উল্লেখ আছে। অপর এক জাতকে এক দরিদ্র দশা প্রাপ্তা বন্নদাসীর কথা জানা যায়। ইন্দ্রিয়জাতকে ( কাওয়েল,৩, পৃষ্ঠা ২৭৭) আছে যে, যে নদীতে বহু লোক স্নান করে, তার তীরে উপবিষ্ট ছিল অনেক বেশ্যা। উদ্দেশ্য স্পষ্টতই শিকার ধরা। (চলবে)
