বাঙালির ইতিহাস ও বহিরাগত তত্ত্ব

বারোভূঁইয়ার অন্যতম রাজা রামকৃষ্ণ।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : বারোভূঁইয়াদের অন্যতম আর এক রাজা রামকৃষ্ণ। ফরিদপুরের সান্তোল অঞ্চলের রাজা ছিলেন তিনি।১০৩৯ সালে বাংলার প্রথম স্বাধীন সুলতানেরা রাজকার্য পরিচালনায় দুজনের প্রভূত সাহায্য পান। দুজনেই বারেন্দ্র ব্রাহ্মণ হিন্দু। একজন শিখাই সাঙ্গল , আর একজন সুবুদ্ধি ভাদুড়ি। বাংলার স্বাধীন সুলতান তাই দুজনকেই খাঁ উপাধি দিয়ে বিস্তীর্ণ জমিদারি দান করেন। শিখাই সাঙ্গলের পুত্র বলাই হন সাতোড়ের রাজা । রাজা বয়স রামকৃষ্ণের মৃত্যুর পর স্ত্রী শর্বাণীদেবী ৬৭ বছর রাজত্ব চালান। পরে বনলতা সেনের নাটোরের রাজা রামজীবনের অধিকারে আসে।

রাণী শর্বাণী।

রাণী শর্বাণী এবং বঙ্গকন্যা যিনি দক্ষতার সঙ্গে সাতোড়ের জমিদারি পরিচালনা করেন। স্বামী রামকৃষ্ণ যখন মারা যান তখন শর্বরীদেবীর ছিল মাত্র একুশ। সময়টা ১৭২০। সেইসময় রাজস্ব ছাড়াও রাণী বছর শেষে বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে লাভ করতেন পাঁচলক্ষ টাকা। কিন্তু রাজা রামকৃষ্ণের অপব্যয়ের কারণে প্রচুর দেনা যেমন হয় তেমন কর্মচারী ও আত্মীয়দের ভাতাও বাকি পড়ে যায়। সেযুগের রাজারা রাজকর্মচারীদের কাছ থেকে আয়ব্যয়ের হিসেব বুঝতেন বছরে দুবার। ফলে হিসেবে যেমন চুরি হতো তেমন গরমিলও হতো।

রাণী শর্বাণী তাই প্রথম দৈনিক হিসেব নিতে শুরু করেন। ফলে অল্পদিনেই সব দেনা শোধ হয়। এমনকি মুর্শিদকুলি খাঁ’র আমলে শর্বাণী আটটি পরগনা নিলামে কেনেন। জমিদারির পরিধি বৃদ্ধি পায়। বারোভূঁইয়াদের রাজত্বের সময়সীমা ছিল আকবর ও আকবরপুত্র জাহাঙ্গীরের সময়কাল। আজও বাংলাদেশের পর্যটকরা রাজশাহীর পুটিয়া রাজবাড়ি দেখতে যান। অতীতের স্মৃতি নিয়ে কোনক্রমে টিঁকে আছে । বারোভূঁইয়ার অন্যতম রাজা পীতাম্বর নীলাম্বরের প্রাসাদ। এই বংশের প্রতিষ্ঠাতা পীতাম্বর। (চলবে)

পরবর্তী পর্ব আগামী শনিবার ১৬ মে,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *