বাঙালির ইতিহাস ও বহিরাগত তত্ত্ব

পর্ব :২৪৯

রাজা রাজবল্লভ।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : ১২ জুলাই ১৭৪৬ রাজা রাজবল্লভের পুত্র কৃষ্ণবল্লভকে মুর্শিদাবাদে দেখা করার হুকুম দিয়ে সিরাজ রাজধানীতে ফিরে যান। সেনাপতি মানিকচাঁদকে দিয়ে যান দুর্গরক্ষার ভার। রাজা রাজবল্লভ ছিলেন মুঙ্গের সহ ঢাকা , ফরিদপুর, বরিশাল ও ত্রিপুরার রাজা। তাঁর পুত্র কৃষ্ণবল্লভ বোঝেন তাঁর চুরির খবর পৌঁছে গেছে সিরাজের কাছে। সুতরাং শাস্তির ভয়ে তিনি আর সিরাজের সামনে দাঁড়াবার সাহস দেখাননি।

স্বামীহারা সিরাজের পিসি ঘসেটি বেগমের সঙ্গে রাজা রাজবল্লভের ছিল গোপন প্রণয়

রাজবল্লভ প্রথম জীবনে ছিলেন মুর্শিদাবাদের মুহুরী। তবে রাজবল্লভের মা ছিলেন বরিশালের বৈদ্য বংশের উত্তর শাহাবাজপুর পরগনার জমিদার কন্যা। রাজ বল্লভের ছিল তিন স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী শশীমুখীর দ্বিতীয় সন্তান ছিলেন কৃষ্ণবল্লভ। শোনা যায়, ঢাকার সিরাজের স্বামীহারা পিসি ঘসেটি বেগমের সঙ্গে রাজবল্লভের ছিল গোপন প্রণয়ের সম্পর্ক। ঢাকার মতিঝিলের এক বর্ণাঢ্য প্রাসাদে থাকতেন ঘসেটি বেগম। সিরাজকে গদিচ্যুত করার গোপন ষড়যন্ত্র হতো এই প্রাসাদেই। সেখানে আসতেন উমিচাঁদ, জগৎ শেঠ, মীরজাফর , রাজবল্লভ প্রমুখেরা।

সিরাজের সেনাপতি মানিকচাঁদ। পাঞ্জাবি ক্ষেত্রী সম্প্রদায়ের মানিকচাঁদ বর্মণ জীবিকার সন্ধানে প্রথম বর্ধমানে আসেন। বর্ধমানের মহারাজা তখন কীর্তিচাঁদ। তাঁর রাজসভায় নিযুক্ত হন মানিকচাঁদ। তখন হাওড়া বা হুগলি জেলার কোনো অস্তিত্ব ছিল না। বর্ধমান রাজ্যের সীমানা ছিল ঝাড়খণ্ডের রাজমহল পাহাড় থেকে মেদিনীপুরের দাঁতন পর্যন্ত। (চলবে)

আগামী পর্ব ৩ অক্টোবর, শনিবার,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *