পর্ব:২৫৫

কর্তাভজা সম্প্রদায়ের নারী সাধিকা।
সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: কর্তাভজা সম্প্রদায়ে সাধনা ও উপাসনার ক্ষেত্রে জাতবিচার ছিল না, ছিল না নারী পুরুষ কোন ভেদ। বাউলের মত এঁদেরও সাধনার প্রধান অঙ্গ সঙ্গীত। এই ধর্মে গুরুই শ্রেষ্ঠ। ঈশ্বরজ্ঞানে তাঁর সেবা এই ধর্মের বৈশিষ্ট্য। নীচ শ্রেণীর মধ্যে এই ধর্ম সমধিক প্রিয় ছিল।

বাংলায় সাধকদের যৌনাচার নিয়ে বহু তথ্য ইতিহাসে আছে।
কালক্রমে এই সম্প্রদায়ে নৈতিক অধঃপতন ঘটে। কর্তা বলে অভিহিত অনেক গুরু নিজেকে ঈশ্বর মনে করে শিষ্য ও শিষ্য পত্নীদের সঙ্গে যথেচ্ছাচারে লিপ্ত হতেন। এই ধর্মাবলম্বীদের কদাচার প্রসঙ্গে সোম প্রকাশ পত্রিকায় কিছু সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল।

প্রাচীন বাংলার বেশ্যা । শিল্পীর তুলিতে।
সেই সংবাদ হুবহু তুলে ধরা যাক। বর্তমান কর্তা ঈশ্বরবাবু শয্যায় শয়ন করিয়া আছেন , অনেকগুলি স্ত্রীলোক তাঁহার চতুর্দিকে বসিয়া। কোন কোন কর্তা কুলবালাদের বস্ত্রহরণ করিয়া বৃক্ষে আরোহণ করেন। কুলবধু প্রভৃতি কামিনীগণ পর পুরুষের সহিত একাসনোপবিষ্টা হইয়া আনন্দলহরী ও গোপীযন্ত্রে গীত ও বাদ্য করিতেছে। মেলায় কর্তাভজাদের আচরণ সম্পর্কে ১৮৬৩ সালের সোম প্রকাশ পত্রিকায় একজন লেখেন যাত্রীদিগের মধ্যে চৌদ্দ আনা স্ত্রীলোক। কুলকামিনী অপেক্ষা বেশ্যাই অধিক। (চলবে)
