পর্ব : ২৪৭

ঘসেটি বেগম চেয়েছিলেন সিরাজের বদলে তাঁর আর এক ভাই হাজী মোহাম্মদের পুত্র হুসেনকুলি খাঁ।
সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : ক্ষমতা দখলের জন্য বিশ্বের ইতিহাসে রক্তের সম্পর্ক পর্যন্ত শত্রু হয়ে উঠেছিল। সিরাজের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি। খুল্লতাত ভাই হুসেনকুলি খাঁ’কেও সিরাজ হত্যা করেছিলেন। সেই রাগ পুষে রেখেছিলেন নিহত পুত্রের পিতা আলিবর্দীর ভাই হাজী মোহাম্মদ। পুত্রের হত্যাকারী পুত্রসম সিরাজকে ক্ষমা করতে পারেননি। আলীবর্দীর বোন ঘসেটি বেগমেরও ইচ্ছে ছিল হুসেনকুলি খাঁ হোক মুর্শিদাবাদের নবাব। সিরাজকে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখতে নতুন করে এক ষড়যন্ত্রের জাল বোনা শুরু হলো।

সিরাজ তাঁর অনুমতি ছাড়া ফোর্ট উইলিয়াম দূর্গ তৈরি করায় দখল নিয়ে নেন
মির্জা মোহাম্মদ হায়রত জং বাহাদুর ওরফে মির্জা মোহাম্মদ সিরাজদ্দৌলা মুর্শিদাবাদের মসনদে বসার আগে থেকেই রাজপরিবার ও রাজ কর্মচারীদের একাংশআর্থিক লাভের বিনিময়ে বৃটিশ বণিক কোম্পানি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে সিরাজকে পদচ্যুত করার ষড়যন্ত্রে সামিল হয়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সিরাজকে অস্বীকার করেই কলকাতার গড়ের মাঠে ফোর্ট উইলিয়াম নামে এক দুর্গ তৈরি করে সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সিরাজ সেই খবর পেয়েই কলকাতা আক্রমণ করে বসেন।

আলীবর্দী খাঁ ইংরেজকে দেন বাংলায় বাণিজ্য করতে।
আলীবর্দী খাঁ যখন ইউরোপীয় বণিকদের বাংলায় ব্যবসার অনুমতি দেন, তখন এখনকার কলকাতার বিবাদিবাগে জিপিও ছিল ইংরেজ দূর্গ। আলীবর্দী অবশ্য ইংরেজ বণিকদের প্রশ্ন করেছিলেন ব্যবসা করতে দূর্গের কি প্রয়োজন? সেই জবাব বেঁচে থাকা পর্যন্ত আলীবর্দী খাঁ পাননি। কিছুদিন পর ইংরেজ বণিক সংস্থা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কলকাতার আরও কিছুটা দক্ষিণে ১৬৯৬ খ্রিস্টাব্দে একটি বড় দুর্গ নির্মাণের দায়িত্ত্ব দেয় প্রযুক্তিবিদ স্যার চার্লস আইয়ার কে। ইংল্যান্ডের রাজা তৃতীয় উইলিয়ামের নামে দূর্গের নামকরণ করা হয় ফোর্ট উইলিয়াম দূর্গ। সিরাজের কাছে খবর পৌঁছয়। বিনানুমতিতে এই দূর্গ নির্মাণের খবরে অশনি সংকেত পান সিরাজ। মুহূর্তমাত্র দেরি না করে কলকাতা আক্রমণ করে ফোর্ট উইলিয়াম দূর্গ দখল করে নেন। (চলবে)
