শিরোনাম

বেশ্যার বারমাস্যা

পর্ব:২৫২

১৭ শতকে বাংলার বৈষ্ণব আখড়ায় দেবদাসী

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : ১৭ শতকের পরবর্তী সময়ে বাংলায় দেবদাসী প্রথার তেমন ব্যাপক প্রচলন না থাকলেও সেবাদাসী প্রথার খুব চল ছিল। সেবাদাসী সংগ্রহের কায়দাও ছিল অভিনব। সারা শরীর ঢেকে হাতের একটি আঙুল বার করে মেয়েরা সারিবদ্ধ হয়ে বসে থাকত।সংগ্রহকারীরা সেই আঙুল ধরে মেয়েদের নিয়ে যেত। এঁদের অনেকেই গার্হস্থ্য জীবনে পুরুষের সঙ্গিনীর হতো। টাকা দিয়ে কিনে বা গায়ের জোরে সমাজের নিচের তলার মেয়েদের ভেট দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন আখড়াতে নিযুক্ত করা হতো। সেবাদাসীরা কিন্তু সাধারণ লোকের ভোগ্যা হতো না। শুধু আখড়ার প্রধান বৈষ্ণব কর্তাদের পরিচর্যায় নিয়োজিত হতো তবে সাধারণ বেশ্যাদের তুলনায় সামাজিক মর্যাদা বেশি ছিল।

১৭ শতকে বাংলার আউল বাউল সম্প্রদায়।

তান্ত্রিক সাধনার অবক্ষয়ের ফলে যে অধঃপতন বাংলায় শুরু তা সমাজজীবনকে নোংরা করেছিল প্রচুর। এমনই একটি ধারা সহজিয়া সম্প্রদায় । মহীরুহের একটি শাখা এরাই আউল বাউল, সাঁই, কর্তাভজা, স্পষ্টাদায়ক , সখীভাবক, রামবল্লভী প্রভৃতি বৈষ্ণব সম্প্রদায়। এরমধ্যে সাধন পদ্ধতির খুঁটিনাটি বিষয়ে প্রভেদ থাকলেও গুরুবাদ নারী পুরুষের নিরঙ্কুশ মিলন ও পরকীয়া প্রেমমাহাত্ম্য প্রভৃতির মৌল ঐক্য বিদ্যমান। এমনটাই উল্লেখ করেছেন ভারতীয় সমাজে প্রান্তবাসিনী গ্রন্থের লেখকদ্বয় সুরেশ চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ও রমলাদেবী গ্রন্থের ২৮০ পৃষ্ঠায়।

কর্তাভজা সম্প্রদায়।

আউল শব্দে বোঝায় বাউল সম্প্রদায়ের এক শ্রেণীর মুসলমান সাধকদের। এই শব্দে বোঝানো হয়েছে মুক্তিকামী বা ঈশ্বরানুগ্রহপ্রার্থী একদল আকুল মানুষকে। এই সম্প্রদায়ে আউলিয়া শব্দে অভিহিত গুরুর প্রভাব অপরিসীম।এর সহজ কর্তাভজা নামেও পরিচিত। প্রকৃতিকে নিয়ে পরমার্থ সাধনে এরা প্রয়াসী। (চলবে)

পরবর্তী পর্ব, আগামী শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *