শিরোনাম

ন্যায় বিচার নারীত্বের ও মর্যাদার দাবিতে রিমঝিম সংবাদমাধ্যমের সাহায্য চাইলেন

*

দিগদর্শন ওয়েব ডেস্ক: শনিবার বিকেলে কলকাতা প্রেসক্লাবে বিবাহোত্তর সমস্যায় অস্তিত্বের সমস্যার শিকার রিমঝিম জৈন সংবাদ মাধ্যমের সাহায্য চাইতে সাংবাদিক সম্মেলন করলেন। দেশের জনপ্রিয় ডি জে সানি শর্মার সঙ্গে প্রেম। পরিণতি বিবাহে। যৌথ জীবনের একরাশ স্বপ্ন নিয়ে এক সুখ নীড় রচনা করতে চেয়েছিলেন রিমঝিম। কিন্তু বিশ্বাসঘাতকতা আর পরকীয়ায় স্বামীর স্খলন রিমঝিমের জীবনে অনিশ্চয়তা ডেকে এনেছে। রিমঝিম চান তিনি এবং তাঁর মত অসংখ্য নারীর ন্যায়বিচারের লড়াইতে যেন সংবাদমাধ্যমকে পাশে পান।

গবেষক সুকুমারী ভট্টাচার্য তাঁর বিবাহ প্রসঙ্গে গ্রন্থে বহু আগেই লিখে গেছেন সবচেয়ে দুর্গম যে মানুষ আপন অন্তরালে তার পূর্ণ পরিমাপ নাই বাহিরের দেশ কালে। বিয়ে বা যৌথ জীবনের প্রাথমিক ভিত্তিতে তিনটি শর্ত। লাভ, কেয়ার ও রেসপেক্ট। এরপর কমিটমেন্ট,কমিউনিকেশন, ডি সলিউশন অফ রোল, লাইভ গ্রো এন্ড সাম আদার্স ও কম্পিটাবিলিটি।আধুনিক সমাজে নারী যখন ব্যক্তি অস্তিত্বের প্রয়োজনীয়তা যত উপলব্ধি করছে তখনই পুরুষশাসিত সমাজ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। সমাজবিদরা একে বলছেন সাইলেন্ট রেভ্যুলিউশন।

১৮ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডে এক ধরণের নয় লেখা হতো যার নাম কন্ডাক্ট বিক্স। এই বইয়ে সমাজব্যবস্থায় মেয়েদের ভূমিকা সম্পর্কে মেয়েদের ভূমিকা ছিল প্রধান। মেয়েদের হাঁটা আচরণ, কথা বলা সম্পর্কে কিছু নির্দেশ থাকত। এই গ্রন্থের লেখিকা নিজে একজন নারী হয়েও বলেছেন, মেয়েদের সমাজে মাথা নত করে থাকা উচিত । যুক্তি, বুদ্ধী, জ্ঞান জনসমক্ষে প্রচার অনুচিত। আধুনিক নারীবাদের জননী সিমোন দ্য বোভোয়ার বলেছেন, কেউ নারী হয়ে জন্মায় না। ক্রমশ নারী হয়ে ওঠে। রবীন্দ্রনাথও বলে বসেন, অর্ধেক মানবী তুমি অর্ধেক কল্পনা। নারী কি তাহলে পূর্ণমানব নয়? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার সঙ্গে সঙ্গে বিবাহিত জীবনে নারী প্রতারিত হয়ে চলবেযুগ যুগ ধরে।সমাজের সহনাভূতি , আইনের বিলম্বিত নিদান নির্ভর করেই বেঁচে থাকা।

রিমঝিম আজকের প্রজন্মের একজন নারী। এমবি এ করে একটি চাকরি করছেন।। নিজের পছন্দে বিয়ে।পরিচয় জনপ্রিয় ডি জে সানি শর্মার সঙ্গে। হাওড়ার শিবপুরে বাড়ি। কর্মস্থল নয়ডা।হঠাৎই জানতে পারেন স্বামী পরকীয়ায় যুক্ত। সুরাট বসবাসকারী এক মহিলার আসন্ন সন্তানের পিতা। যথারীতি কলকাতায় বাবার কাছে ফিরে আইনের আশ্রয়নিয়েছেন ।চারদিনের হাজতবাসের পর সানি এখন জামিনমুক্ত। আদালতে মামলা। রিমঝিমের প্রশ্ন , বিবাহিতা নারীর অস্তিত্বকে অগ্রাধিকার না দিয়ে আইন কি করে পরকীয়া সম্পর্ককে বৈধ ঘোষণা করে? আইনি সংশোধনের অধিকার শুধুমাত্র দেশের ক্ষমতাসীন কেন্দ্রীয় শাসক দলের আছে। এই দাবি পৌঁছে দিতেই গণমাধ্যমের সাহায্য চেয়ে এই সম্মেলন।

রিমঝিমের স্বামী প্রভাবশালী। অস্তিত্বের দাবিতে লড়িয়ে রিমঝিমকে মোটা টাকার বিনিময়ে বিচ্ছেদে সম্মতি দেওয়ার চাপ দেওয়া হচ্ছে এমনটাই অভিযোগ রিমঝিমের। রাজ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই রিমঝিম সংবাদমাধ্যমের সাহায্য নিচ্ছেন।আশা করা যায়, প্রশাসন দুপক্ষের কথা শুনে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *