পর্ব:২৪৬

১৮ শতকের শেষে বাংলার মেয়েরা যখন বারাঙ্গনায় পরিণত হয়।
সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : যে ২৭ জন কুলীন কন্যার বেশ্যা হওয়ার কথা সম্বাদভাস্কর পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল , এদের মধ্যে ১৬ জন অপেক্ষাকৃত প্রাচীনা,৮ জন অর্ধ যৌবনা ২ জন যুবতী ও ১ জন দ্বাদশবর্ষীয়া বাল বিধবা। এই ১৬ জনের মধ্যে বি৭ জন ব্রাহ্মণ কুলীন কন্যা। এদের বিয়ে হয়নি এবং অদূর ভবিষ্যতে বিবাহের সম্ভাবনাও ছিল না। পিতামাতা কৌলীন্য রক্ষার্থে তাদের গঞ্জনা দিতেন ,কিন্তু বিবাহের ভরণপোষণ করার ক্ষেত্রে উদাসীন ছিলেন অথবা অক্ষম ছিলেন।

১৮ শতাব্দী থেকে বিধবাএকাদশীর নামে যন্ত্রণাময় ধর্মীয় রীতিতে অতিষ্ঠ হয়ে বহু বাঙালি কন্যা ঘোর ছেড়ে বেশ্যা জীবন বেছে নিতে বাধ্য হয়।
এই কারণেই অভাগা মেয়েরা ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়। পাঁচজন কায়স্থ কন্যার বিধবা একাদশীতে উপবাস সহ্য করতে না পেরে সংসার ত্যাগ করে। দুজন তাঁতী জাতীয়া নারী স্বামী কর্তৃক প্রহৃত হ’ত বোলে নির্যাতন থেকে বাঁচতে গৃহত্যাগ করতে বাধ্য হয়। দুজন সদগোপ নারী উপপতির হাত ধরে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এসের নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখে।

বহু গৃহস্থকন্যা শ্বশুরবাড়ির অত্যাচারে ঘোর ছাড়ে উপপতির ভরসায়।
আটজন অর্ধযৌবনা নারীর মধ্যে পাঁচজন শূদ্রা ও তিনজন ব্রাহ্মণকন্যা।এরাই প্রত্যেকেই ছিলেন বিধবা। বৈধব্যযন্ত্রণা এবং পরিবারের নানাবিধ উৎপীড়ন গৃহত্যাগের কারণ। অপর দুই কন্যা পতিগৃহে থেকেও পতিদেবতার সঙ্গলাভে বঞ্চিত ছিলেন।তাদের যথাযথ পতিসেবা এবং গৃহকর্ম সত্ত্বেও তাদের স্বামীরা বাইরের ঘরে অন্য নারী নিয়ে আমোদপ্রমোদে ব্যস্ত থাকত। এরফলে তারা সংসার ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে। (চলবে)
