বেশ্যার বারমাস্যা

পর্ব:২৪৫

শিল্পীর তুলিতে ১৮০০ সালে হিন্দু গণিকা।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : হতভাগ্যা কুলীন কন্যা তাঁর বারাঙ্গনা জীবনের করুণ কাহিনীর সঙ্গে নিজের বোন ও কিশোরী বয়সের প্রায় ২০ জন মেয়ের কথাও উল্লেখ করেছে। সে লিখেছে, তাঁহারা আমার ন্যায় কলিকাতার স্থানে স্থানে অধিবাস করিতেছেন।
লেখিকা লিখেছেন,১৮৫৩ সালের এক সরকারি রিপোর্ট থেকে জানা যায়, কলকাতায় হিন্দু পতিতার সংখ্যা ছিল দশ হাজার এবং তাদের অধিকাংশ কুলীন ব্রাহ্মণের স্ত্রী।

গৌরীশঙ্কর তর্কবাগীশ।

সুরেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ও রমলাদেবী তাঁদের ভারতীয় সমাজে প্রান্তবাসিনী গ্রন্থে ২৭৬ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, উনিশ শতকের মধ্যভাগে সম্বাদ ভাস্কর নামক পত্রিকায় সম্পাদক গৌরীশঙ্কর তর্কবাগীশ (১৭৯৯-১৮৫৯ খ্রী:) মহাশয় পত্রিকার পক্ষ থেকে সাতাশ জন পতিতা নারীর সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারের আয়োজন করেছিলেন।১৮৫১ খ্রিস্টাব্দের ১ লা মে তারিখের কাগজের সম্পাদকীয় স্তম্ভে তিনিই সাক্ষাৎকারের যে ফল প্রকাশ করেছিলেন , তার থেকে নিম্নলিখিত তথ্য সংগ্রহ করা যায় । এই তথ্যের সূত্র হিসেবে লেখকদ্বয় মায়া ভট্টাচার্য লিখিত ১৯/৮/৮৪ তারিখের আনন্দবাজারে প্রকাশিত সম্বাদ ভাস্করে পতিতা নিবন্ধ উল্লেখ করেছেন।

সে যুগের কলকাতায় বারাঙ্গনা।

লেখকদ্বয় লিখেছেন, অনেক বিধবা সধবা , কুলীন কন্যা এবং অন্যান্য নীচ হিন্দু জাতীয় স্ত্রী লোকও পতিকূল, পিতৃগৃহ অথবা মাতুলালয় ছেড়ে বাইরে ছিল যাচ্ছে। এর কারণ যন্ত্রণা। বাইরে গিয়ে তারা কুকর্মে লিপ্ত হয় পরে অনুতাপ সত্ত্বেও যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছে, সেখানে তারা আর স্থান পায় না। (চলবে)

পরবর্তী পর্ব আগামী সোমবার ২৪ আগস্ট,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *