*

দিগদর্শন ওয়েব ডেস্ক: মধু কবি লিখেছেন , বাংলার স্বর্ণালংকার হাতেতে শাঁখা আর চরণে মল, কানেতে কানপাশা চকচকমল। গলার চিকন হারে জয়ের গান, বাঙালির সাজে বাড়ে নিখুঁত মান। নাকের নথটি যেন চাঁদেরকলা, সোনা রূপালী আলোয় সাজে মেলা। ঐতিহ্য জুড়ে রয় পুরনো টান, স্বর্ণালংকার বাঁচে প্রাণের প্রাণ।
আদি মৌর্য ও গুপ্ত যুগের শুরু থেকে ঐতিহাসিক নথি ও ধর্মীয় গ্রন্থের তথ্যে বাংলার অলঙ্কার শিল্পীদের প্রতিভার কথা উল্লেখিত হয়েছে মুঘল আমলে পারস্যের ইসলামি প্রভাবে বাংলার এই অলঙ্কার শিল্পের কৌলীন্য বিশ্বখ্যাত হয়ে ওঠে। বাঙালি শিল্পী ও ব্যবসায়ীর এই ঐতিহ্য আজও সেই ট্র্যাডিশন বহন করে চলেছে।

১৯৮৪ থেকে কলকাতার অন্যতম অলঙ্কার নির্মাতা বি সরকার জহুরী পথ চলা শুরু করেছিল স্বর্ণালংকার নির্মাণে হল মার্কিং প্রথার প্রচলনে এবং ইন্দিরা গান্ধীর প্রধানমন্ত্রীত্বের সময় দেশের অন্যতম স্বর্ণালংকার রফতানিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করে। প্রতিষ্ঠাতা বি সরকার যিনি সংগীতজ্ঞ ও চলচ্চিত্র প্রযোজক বীরেশ্বর সরকার নামে খ্যাত ছিলেন। উত্তমকুমার অভিনীত সোনার খাঁচা, অমল পালেকর, শর্মিলা ঠাকুর অভিনীত মাদার ও সুধা চন্দ্রন অভিনীত রাজনর্তকী সুপার হিট ছবির জনক বি সরকারের অলঙ্কার বিপণি ক্রমশ ক্রেতা শুভেচ্ছায় বিস্তৃতি লাভ করে। রবিবার দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়াহাট এলাকায় একটি দ্বিতল বিপণি উদ্বোধন হলো।
উদ্বোধন করলেন প্রাক্তন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। এই নতুন বিপণিতে ক্রেতা চাহিদা স্মরণে রেখে সোনা, হীরে, রুপো ও প্ল্যাটিনাম গয়নার সম্ভার রাখা হয়েছে। সংস্থার মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক শ্রী সরকার জানালেন, বি সরকারের দোকান মানে ঐতিহ্য, কারু শিল্প ও সৌন্দর্যের এক রাজযোটক।
উদ্বোধক লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, বাংলার শিল্পীরা যোগ্যতার সঙ্গে বাংলার বাইরে বিশেষ করে সুরাটে গিয়ে তাঁদের শৈল্পিক সত্ত্বার পরিচয় দিচ্ছেন।পশ্চিমবঙ্গেও সুরাটের মত একটি জুয়েলারি পার্ক গড়ে তোলা দরকার।
