বেশ্যার বারমাস্যা

পর্ব : ২৩১

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: বাংলা সাহিত্যে শৃঙ্গার রস নিয়ে কয়েকশ বছর ধরে একটা প্রবাহমানতা রয়েছে।বারাঙ্গনাদের নিয়ে গ্রন্থ রচনারও ঐতিহ্য রয়েছে। বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ। সম্ভবত ১০; শতাব্দীর রচনা। সমাজ জীবনের বহু ঘটনায় তান্ত্রিক ও দার্শনিক তত্ত্ব উল্লেখিত হয়েছে।

বাংলায় চর্যাপদের যুগে ডোম অস্পৃশ্য হলেও ডোম রমণীদের সঙ্গে যৌনাচারে ব্রাহ্মণ ও উচ্চবর্ণের বাঙালি লিপ্ত হত।

যেমন পদসংখ্য ২ । সেযুগের যৌন প্রবৃত্তির কিছু পদ্ধতি উল্লেখ হয়েছে এ দিবসই বহুড়ি কাড়ই ভরে ভাঅ। রাতি ভৈলে কামরু জাঅ। যা আজকের বাংলায় ভাবানুবাদ করলে বলা যেতে পারে দিবসে বধুটি না কাঁদে সদাভোয়ে ভীত। রাত্রিতে চলিয়ে যায় কামে হতে প্রীত। নগদ বাহিরি রে ডোম্বি তোহরি কুড়িআ। ছোই ছোই জাহ সো ব্রাহ্মণ নাড়িয়া।। ভাবানুবাদ তোমার কুড়িয়া ডোম্বি, নগর বাহিরে। ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাও তুমি ব্রাহ্মণ নেড়াবে।। ডোম্বি শব্দের অর্থ ডোমকূল রমণী।

এই পদ থেকে অনুমেয়, সমাজে ডোম জাতি অস্পৃশ্য হলেওএবং নগরের বাইরে তাদের স্থান সত্ত্বেও বি ডোম রমণীদের সংগে ব্রাহ্মণ ও উচ্চ বর্ণের যৌন সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল। এই দেশে তন্ত্রের ব্যাপকতার প্রকৃষ্ট উদাহরণ স্মার্ত রঘুনন্দন ভট্টাচার্যের তান্ত্রিক ব্দীক্ষার স্বীকৃতি। সময়কাল ১৬! শ শতক। তান্ত্রিক সাধনার আড়ালে যে কুৎসিৎ আচার অনুষ্ঠান প্রবেশ করেছিল না তার এক উজ্জ্বল বৈশিষ্ট্য মেলে চৈতন্য ভাগবতকার বৃন্দাবন দাসের রচনায়। কবির জন্মকাল ১৫০৭ খ্রিস্টাব্দ। (চলবে)

পরবর্তী পর্ব আগামী শুক্রবার ১০ জুলাই,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *