
সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনের ডাক দিয়েছিল বিজেপি ।বাংলায় ক্ষমতা দখলের আনন্দে উৎসাহিত হয়ে। শুক্রবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিমবঙ্গ দিবস অনুষ্ঠানে রাজ্যের নবনিযুক্ত উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের গলায় প্রতিধ্বনিত হলো সেই একই সুর। তিনি বললেন,নানার ঘটনার অভিঘাতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে হিন্দু মহাসভার বাংলা ভাগের পথই কংগ্রেস পর্যন্ত গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। শ্যামাপ্রসাদের সংগ্রামী পদক্ষেপের পরিণতিতে আজকের পশ্চিমবঙ্গ ভারতভুক্ত হয়। শিক্ষামন্ত্রীর অভিযোগ, আসল ইতিহাসকে ধামাচাপা দিয়ে মানুষকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা চলছে -, শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ব বিদ্যালয়ের পাঠক্রমে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের প্রকৃত ইতিহাস চর্চার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । শিক্ষামন্ত্রী বাংলার গত ৮০ বছরের শাসকদলের সমালোচনা করে বলেছেন শাক দিয়ে মাছ ঢাকার অভ্যস্ত ত্যাগ করুন। মাছের কাঁটা বেছে দিতে হবে।
বেশ কয়েক বছর আগে বাংলার এক বহুল প্রচারিত বাংলা সাপ্তাহিকে বিজেপি দলের অন্যতম বুদ্ধিজীবী মোহিত রায় লেখেন মনে রাখতে হবে পশ্চিমবঙ্গ শুধু বাংলার পশ্চিম অংশ নয়, কেবল একটি ভৌগোলিক অংশ নয়, পশ্চিমবঙ্গ একটি ভাবনা, পশ্চিমবঙ্গের সৃষ্টি অমুসলমান বাঙালিদের নিরাপদ অস্তিত্বের জন্য। অস্তিত্ব মানে অমুসলমান বাঙালিদের নির্ভয় জীবনযাপন, নারীর নিরাপত্তা, বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক চর্চা সব কিছুই আজ বিপন্ন। বাংলার এই ভাগ হিন্দু চেয়েছিল , মুসলমান বাঙালি চায়নি। ৬০০ বছরের বাংলার ইসলামি শাসনের ইতিহাস বাঙালি ভোলে নি। মাঝে ২০০ বছরের শান্তির পর ১৯৪৬ এর ১৬ আগস্ট হিন্দু নিধন শুরু হওয়ার জেরে কলকাতার বীভৎস দাঙ্গা। তারপর নোয়াখালিতে হিন্দু গণহত্যার পর কেউ মুসলমান শাসিত বাংলায় থাকার কথা ভাবতেই পারেননি । অখন্ড ভারতের প্রবক্তা শ্যামাপ্রসাদ কলকাতা দাঙ্গা, নোয়াখালির গণহত্যার পর বলতে বাধ্য হয়েছিলেন যে ভারত ভাগ হোক আর না হোক বাংলাকে খন্ডন করতেই হবে ।

কিন্তু সত্যিই কি দ্বিজাতি তত্ত্বে বাংলা ভাগ হয়েছিল? ২০ জুন ঘটে যাওয়ার ইতিহাসটা সত্যিই কি ছিল? ফিরে যেতে হবে ১৯২৩ সালে। বাংলার রাজনীতিতে মধ্য গগনে চিত্তরঞ্জন। কংগ্রেসের সঙ্গে মত বিরোধ। দল গঠন করলেন স্বরাজ্য পার্টি । এই বাংলার হিন্দু মুসলমানের ক্রমবর্ধমান দূরত্ব ঘোচাতে দেশবন্ধুর উদ্যোগে বেঙ্গল প্যাক্ট সম্পাদিত হয়। সিদ্ধান্ত হয় সম্প্রদায়গত ভিন্নতার জন্য পৃথক নির্বাচকমন্ডলী গঠিত হবে। কাউন্সিলর সদস্যদের তাঁরাই নির্বাচিত করবেন।
বেঙ্গল প্যাক্ট আসলে কি? অনেকেরই কাছে বিষয়টি স্পষ্ট নয়। বেঙ্গল প্যাক্ট সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল সম্প্রদায়গত ভিন্নতার কারণে। দুই বাংলা মিলিয়ে হিন্দু বাঙালি ও মুসলিম বাঙালির আনুপাতিক হারে ছিল ৬০:৪০। সরকারি চাকরিতে নির্ধারিত হয় ৫৫ ভাগ মুসলিমদের জন্য সংরক্ষণ। যতদিন সেই সংখ্যা পূরণ নয় হয় ততদিন ৮০ শতাংশ হারে সরকারি পদে মুসলিম নিয়োগ হবে। কোন সম্প্রদায়ের ৭৫ শতাংশের অনুমতি ছাড়া তাঁদের ধর্ম সংক্রান্ত কোন বিষয়ে কাউন্সিলে আলোচিত হতে পারবে না। কিন্তু এই চুক্তি সম্পাদনের অল্পদিনের মধ্যেই চিত্তরঞ্জন প্রয়াত হন। সময়টা ছিল ১৯২৫।
দেশবন্ধুর প্রয়াণে মওলানা আজাদ বলেছিলেন, চিত্তরঞ্জনের মত উদার দৃষ্টিভঙ্গীসম্পন্ন রাজনীতিবিদ বাংলায় নেই। তিনি বেঁচে থাকলে বাংলাভাগ হতো না। ১৯২৬ এ বেঙ্গল প্যাক্ট প্রত্যাখ্যাত হয়। প্রত্যাখ্যাত কারা করে? কংগ্রেস। কোন কংগ্রেস? যে কংগ্রেস পরিচালিত উচ্চবর্ণের নেতৃত্বে । চিত্তরঞ্জন বেঁচে থাকতেই কংগ্রেস এই বেঙ্গল প্যাক্ট চুক্তির বিরোধিতা করেছিল। ১৯২৬ এ বাংলার প্রদেশ কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করে এই চুক্তি।১৯২৪ সালে সিরাজগঞ্জ সন্মেলনে এই বিল পাশের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন তিনি । একদিকে চিত্তরঞ্জনের মৃত্যু, অন্যদিকে বেঙ্গল প্যাক্টের অবলুপ্তি বাংলার মুসলিম সমাজ স্বরাজ্য দল ও কংগ্রেসের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে দূরে সরে গেল। ফলে ঐতিহাসিক কারণেই দুই ধর্মীয় বিভাজনের বাঙালি আলাদা হয়ে গেল। স্বরাজ্য দল মুছে গেল।এই সুযোগটাই নিল ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দু নেতৃত্ব। মনে রাখতে হবে এই ঘটনার সময় শ্যামাপ্রসাদ রাজনীতির ধারে কাছে নেই।

দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্রপ্রসাদ তাঁর ‘ইন্ডিয়া ডিভাইডেড ‘ গ্রন্থে লেখেন, সেসময় অবিভক্ত বাংলার জনসংখ্যার অনুপাত ছিল মুসলিম ৫৪.০৪ শতাংশ, হিন্দু ৪৪.৩৮ শতাংশ। শ্যামাপ্রসাদ তখন অর্থাৎ দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের প্রয়াণের সমসাময়িক সময়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেটের সদস্য নির্বাচিত হয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজে যুক্ত হন ১৯৩৪ সালে। মাত্র ৩৩ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ঠ সহ উপাচার্য হিসেবে নিযুক্ত হন । পরবর্তী সময়ে কংগ্রেসে যোগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনী ক্ষেত্রে তিনি নির্বাচিত হন। গান্ধীজির আইন অমান্য আন্দোলনে নির্দেশ আসে দেশপ্রেমিকদের সরকারি চাকরি ছেড়ে আন্দোলনে যোগ দিতে হবে। শ্যামাপ্রসাদ সেই ডাকে সাড়া দেন বটে, কিন্তু কংগ্রেসের কিছু নীতিতে সহমত না হয়ে বংগ্রেস ত্যাগ করেন। নির্দল হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরবর্তী সময়ে জিতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিত্ব হিসেবে সকলের নজরে পড়েন। মদনমোহন মালব্য ও বিনায়ক দামোদর সাভারকর প্রতিষ্ঠিত হিন্দু মহাসভা চাইছিল নির্দল নয়ত হিন্দু মহাসভার প্রার্থী হিসেবে যেন প্রতিদ্বন্ধিতা করেন শ্যামাপ্রসাদ। দ্রুত হিন্দু মহাসভা যোগ দেন

শ্যামাপ্রসাদ সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন,১৯৩৯ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি। এই সময়ে রাজনীতিতে যোগ দেওয়া অন্যায়। তিনি তাঁর আত্মজীবনী leaus from a Dairy বইতে ২৮ পৃষ্ঠায় লেখেন my tenderises laye in the sphere of educationally administration ande I did not feel attracted by the noisy and dustry varrere of a politiviany . I thought the best way to serve my country whould be through the path of education ,secondly I belonged to no active political. Party whose platform I coulde utilise for rousing public opinion out side the legislatiuee.
হিন্দু মহাসভার নেতৃত্ব চাইছিল যেমন করেই হোক শ্যামাপ্রসাদকে সংগঠনে যুক্ত করতে। তাই শ্যামাপ্রসাদকে রাজি করাতে মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন ভারত সেবা আশ্রমের স্বামী প্রণবানন্দ মহারাজকে। প্রণবানন্দকে শ্রদ্ধা করতেন শ্যামাপ্রসাদ। সেই প্রণবানন্দ ক্রমাগত প্রভাব বিস্তার করে গেছেন শ্যামাপ্রসাদকে হিন্দু মহাসভার সঙ্গে যুক্ত করতে। এটাও মনে রাখতে হবে ১৮৮২ তে দুই বাঙালি নবীনচন্দ্র রায় ও চন্দ্রনাথ মিত্রের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে হিন্দু মহাসভা। ১৯০৯ সালে পাঞ্জাবে লালা লাজপত রায় , বি এন মুঞ্জে প্রমুখের নেতৃত্বে এই দুই সংগঠনের মিলন ঘটিয়ে গড়েন সর্বভারতীয় হিন্দু মহাসভা। এই সময়কালে ঘটে অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা । উনিশ শতকের শেষে মহারাষ্ট্রে জ্যোতিবাই ফুলের নেতৃত্বে সত্যসাধক সমাজ ও আমেদকরের আদর্শে ১৯২০ তে দলিত আন্দোলনে ব্রাহ্মণ্যবাদ বিরোধী এক সামাজিক আন্দোলন গড়ে ওঠে।
দেশের ব্রাহ্মণ্যবাদী উচ্চবর্ণের রাজনৈতিক নেতৃত্ব বুঝলেন ভারতে নিম্নবর্ণের মানুষ, আদিবাসী হিন্দু নন। অন্যদিকে মুসলমান সমাজ যদি যৌথ শক্তি হয়েওঠে উচ্চবর্ণের ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও কায়স্থ ব্যবসায়ীরা সংখ্যালঘু হওয়ায় সমাজে কতৃত্ব হারাবেন। ফলে দরকার নিম্নবর্ণ সমাজে বিভাজন ঘটিয়ে মুসলমান ও আদিবাসীদের সঙ্গে একটা দূরত্ব তৈরি করা।

পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে ২০ জুন প্রতিষ্ঠা করতে এক ভোটাভুটি করার আয়োজনে এপার বাংলার উচ্চবর্ণের অধিকাংশ রাজনীতিবিদেরা বঙ্গভঙ্গের পক্ষে রায় দেন। যে মুসলিম লীগের সঙ্গে সরকার গড়ে মন্ত্রিত্ব করলেন শ্যামাপ্রসাদ,সেই শ্যামাপ্রসাদ মুসলিম লিগের প্রভাব বৃদ্ধিতে ও কংগ্রেসের নিষ্ক্রিয়তায় ১৯৪৬ সালের ১০ জানুয়ারি লেখেন,,, একটি প্রতিষ্ঠান যে হিন্দুর সহযোগিতার ওপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে। অথচ হিন্দু স্বার্থরক্ষা করার কথা চিন্তা করা বা বলা পাপ মনে করছে। সেই প্রতিষ্ঠান কি করেবিলড়তে পারে আর এক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যে মুসলিম প্রাধান্য স্থাপন করাই ইসলামের ধ্বজা তোলাই তার একমাত্র কাম্য মনে করে?
এই প্রসঙ্গে দলিত লেখক নিকুঞ্জবিহারী হাওলাদার তাঁর ব্রাহ্মণ্যবাদ ভারতীয় সমাজের ক্যান্সার গ্রন্থে লিখেছেন ,,,,,, জিন্নার নেতৃত্বে মুসলিম লীগ হিন্দুদের আধিপত্য মেনে নিয়ে ভারতে থাকতে রাজি নয়। জহরলাল বুঝেছিলেন মি; জিন্না আলাদা রাষ্ট্র নিয়ে বেরিয়ে গেলে তাঁর নেতৃত্ব নিষ্কণ্টক হবে এটা হবে ডিভাইড অ্যান্ড রুল পলিসি,,,,,,।
সি রাজাগোপালাচারী দক্ষিণী ব্রাহ্মণ। তিনি তো খোলাখুলি দেশ বিভাগের প্রস্তাবে তাড়াতাড়ি ক্ষমতা দখল করতে বলেন। কারণ তাঁরা সব বুড়ো হয়েছেন। কবে আর ক্ষমতা ভোগ করবেন? তিনি বললেন Bengal and punjab are two stumbling blocks to the India’s independence. অর্থাৎ বাংলা ও পাঞ্জাব স্বাধীনতার পথে প্রতিবন্ধক। অন্যদিকে জিন্না ছিলেন মারণ রোগে আক্রান্ত। তিনিও চাইছিলেন বেঁচে থাকতে থাকতে ক্ষমতার স্বাদ চেখে দেখা। তাই সাধারণ মানুষের ইচ্ছে অনিচ্ছে গৌণ হয়ে গেল। নেতারা ভাগ করে নিলেন পিঠের টুকরো।

দলিত লেখক নিকুঞ্জিবিহারী লিখেছেন , বাংলার উচ্চবর্ণের নেতৃত্বের একাধিপত্য বজায় রাখতেই বাংলাভাগ । এই বাংলা ভাগের দাবি প্রতিষ্ঠা করা হল তারকেশ্বরের হিন্দু মহাসভার এক সন্মেলনে। সেখানে শ্যামাপ্রসাদ বলেছিলেন পাকিস্থান হোক না হোক বাংলার বর্তমানে সীমার মধ্যে দুটি প্রদেশ গঠন করার জন্য আমরা দাবি জানাচ্ছি। বাংলা ভাগের প্রয়োজন সম্পর্কে সেদিন শ্যামাপ্রসাদ বলেছিলেন, ইহারা ( মুসলমানরা) হইতেছে হিন্দু সমাজের তলানির নোংরা হইতেএকদল ধর্মান্তরিত নিচু জাতির হিন্দুকে ( মুসলমানদের) সন্তুষ্ট করিবার জন্য সুপ্রাচীন হিন্দু সংস্কৃতিকে সেক্ষেত্রে বলি দিতে হইবে।( শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি পেপার্স)
শুধু শ্যামাপ্রসাদ নন, সেই সময়ের কংগ্রেস, কমিউনিষ্ট দলিত ও নিম্ন বর্ণের হিন্দু ও মুসলমানের হাতে নেতৃত্ব গেলে তাঁদের অস্তিত্ব সংকটের ভয়। ধর্মীয় ভেদে তাই তাঁরা বঙ্গভঙ্গের পক্ষে রায় দেন। বাংলার রাজনীতিতে ক্ষমতার আধিপত্যের দিকে তাকালে দেখা যাবে অবিভক্ত বাংলায় মুসলিম আধিক্য থাকায় সেই সময়ের মুখ্যমন্ত্রী যা প্রধানমন্ত্রী নামে প্রচলিত ছিল প্রত্যেকেই ছিলেন বাঙালি মুসলিম । ফলে বঙ্গভঙ্গ করতে এক ছাতার তলায় এলেন কংগ্রেসের , সুরেন্দ্র মোহন ঘোষ, ড,: বিধানচন্দ্র রায়, কিরণ শঙ্কর রায়,, ফরোয়ার্ড ব্লকের মে জে এ সি চ্যাটার্জি, হেমন্ত বসু , জ্যোতি বসু, রতনলাল ব্রাহ্মণ, রূপনারায়ণ রায় । সঙ্গে শাসন পরিষদের প্রাক্তন সদস্য নলিনী রঞ্জন সরকার, হিন্দুস্থান স্ট্যান্ডার্ড ও আনন্দবাজার পত্রিকা গোষ্ঠীর সুরেশচন্দ্র মজুমদার ও অমৃতবাজার পত্রিকার সম্পাদক তুষাকান্তি ঘোষ, ঐতিহাসিকদ্বয় স্যার যদুনাথ সরকার , ড: রমেশচন্দ্র মজুমদার , মাখন লাল চৌধুরী, ভাষাতত্ত্ববিদ ড: সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় ও ড: সুকুমার সেন। সাক্ষর করেছিলেন বিজ্ঞানী মেঘনাথ সাহাও। কিন্তু যে মেঘনাদ উচ্চবর্ণের অত্যাচারে অত্যাচারিত হয়েছিলেন সেই তিনি কোন কারনে উচ্চবর্ণের নেতৃত্বের সঙ্গে গেলেন আজও তা রহস্য। অথচ যাঁরা বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে ছিলেন সেই সুভাষচন্দ্রের বড় ভাই শরৎ চন্দ্র জেলে। বাংলা থেকে নির্বাচিত আমবেদকরকে সভায় রাখা হলো না। রাখা হলো না যোগেন মণ্ডলকে ।
১৯৪৭।১৩ মে বল্লভ ভাই প্যাটেল বাংলার তদানীন্তন গণ পরিষদের প্রভাবশালী সদস্য কে এস নিযোগীকে এক প্রস্তাবে খন্ডিত বাংলার পশ্চিমাঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শ্যামাপ্রসাদের নাম উল্লেখ করেন। (সূত্র: দুর্গা দাস সম্পাদিত সর্দার প্যাটেলস করস্পন্ডেন্টস পঞ্চম খন্ডের ৫৫ -৬০ পৃষ্ঠা।) শ্যামাপ্রসাদ কিন্তু কংগ্রেসের নন ,তিনি হিন্দু মহাসভার সদস্য ছিলেন। কংগ্রেসের এই টোপ শ্যামাপ্রসাদকে বঙ্গভঙ্গের পক্ষে বেশি করে উদ্দীপ্ত করে তোলে। সুতরাং দ্বিতীয় বঙ্গভঙ্গের চিত্রনাট্য তৈরি হয় পরিকল্পনা করেই । নেহাৎ দ্বিজাতি তত্ত্বে নয় , বাংলা ভাগ হয়েছিল নিম্নবর্ণের হিন্দু ও বাঙালি মুসলিমদের নেতৃত্ব রুখে দিতে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এপার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তালিকা দেখুন। ঘোষ, রায় সেন, মুখার্জি, বসু, ভট্টাচার্য, বন্দ্যোপাধ্যায়, অধিকারী। নয় ব্রাহ্মণ নয়তো উচ্চ বর্ণের ক্ষত্রিয় বা কুলীন কায়স্থ।অথচ ভোটার তালিকার প্রায় ৮৫ শতাংশ অব্রাহ্মণ এবং উচ্চবর্ণের হিন্দু নন ভূমিপুত্র এস সি এস টি ওবিসি, ভাগে বিভক্ত মানুষ ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। তাঁরা এখনও বঞ্চিত। রাজ্যে ৩০ শতাংশ মুসলিম হলেও মন্ত্রিত্বে নেই প্রতিনিধি। প্রার্থীই যখন ছিল না
তখন বিধায়ক নেই। নেই তাই মন্ত্রী।
শোনা যাচ্ছে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিদ্রোহী ফিরহাদ হাকিমকে একটি পদ দিয়ে দুধের স্বাদে ঘোলে মেটানোর ব্যবস্থা হচ্ছে। ইতিহাস বড় নির্মম। সিধু কানুকে ধরিয়ে দিয়েছিল এক আদিবাসী। সিরাজকে উচ্ছেদ করে মীরজাফর। সুতরাং বিরোধী মুখোশের আড়ালে বিজেপি সরকারকে শক্তি জুগিয়ে যাবেন আর এক ব্রাহ্মণ বালিশাচার্য শান্ডিল্যগোত্রীয় কুলীন ব্রাহ্মণ বন্দ্যোপাধ্যায় সমীপেষু।
