শিরোনাম

বেশ্যার বারমাস্যা

বৌদ্ধযুগে গণিকাদের অনেকেই বুদ্ধের শরণাপন্ন হয়ে জীবিকা ত্যাগ করে ভিক্ষুনী হন।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: বৈদিক পরবর্তীকালে গণিকাবিহারের অদ্ভুত কিছু তথ্য মিলেছে। যেমন বৃহৎ কল্পসূত্র ভাষ্য গ্রন্থে একজন গণিকা পরিচালিত চিত্রশালায় উল্লেখ আছে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর রাগ অভিমানের নিরসন ঘটাতে গণিকারা যৌন সম্পর্ক স্থাপনের আগে এই চিত্রশালায় গ্রাহক ধনী ব্যবসায়ীদের আমন্ত্রণ করতেন। এখানে গ্রাহকের মনস্তাত্বিক পরীক্ষা করে গণিকারা বোঝার চেষ্টা করতেন গ্রাহকের কিসে সন্তুষ্টি।

শিল্পীর তুলিতে বৌদ্ধযুগের অন্যতম গণিকা দেবদত্তা।

এই ধরণের গ্রন্থে আরও উল্লেখিত আছে চম্পাবাসিনী বারবিলাসিনী দেবদত্তা ধনীগ্রাহকদের নানা সুগন্ধি দ্রব্য, ফুল ও বৈদেশিক খাদ্যদ্রব্যসহ বনভোজনে গিয়ে হ্রদের কাছাকাছি খুণ মণ্ডব বা শিবির স্থাপন করেছিলেন।আকৃষ্ট গ্রাহকদের দেবদত্তা রথে চড়ে উদ্যানে যেতেন , হ্রদে জলকেলি করতেন। গন্ধদ্রব্য, খাদ্য দ্রব্যাদি উপভোগ করতেনএবং তার সঙ্গে রাত্রিযাপন করতেন।

বৌদ্ধযুগে রাজসভায় গণিকাদের মান্যতা ছিল।

মহীয়সী বৌদ্ধ গণিকাদের মতো জৈন গ্রন্থসমূহে উল্লেখিত গণিকারাও লোভ সংবরণ করে উদারচরিত্র ও ধর্মীয়ভাবে মানসিক পরিবর্তন সাধন করেন। পাটলিপুত্রের প্রখ্যাত গণিকা কোশা স্থূলভদ্রকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতেন । স্থূলভদ্র বিষয়আশয় সম্পর্কে বিমুখ হয়ে গৃহস্থ জীবন ছেড়ে অবসর নেন। এরপর কোশা আর কোনো পুরুষের মনোরঞ্জন করেননি। একরকম গৃহ সন্ন্যাস নেন। স্থূলভদ্র সন্ন্যাস অবলম্বনের পর পাটলিপুত্রে ফিরে এলে কোশা তাঁর বাণীতে উদ্বুদ্ধ হয়ে শ্রাবিকা অর্থাৎ নারী সন্ন্যাস নিলেন। সংকল্প অনুযায়ী তিনি আর কারো শয্যাসঙ্গিনী হননি বটে কিন্তু রজত জোরপূর্বক তার প্রতি উপনত হলেন। এসবই নাকি উল্লেখ আছে উত্তরাধ্যয়ন টীকা ২/২৯ এ। এমনটাই লিখেছেন লেখকদ্বয় সুরেশচন্দ্র ব্যানার্জি ও রমলা দেবী তাঁদের ভারতীয় সমাজে প্রান্তবাসিনী গ্রন্থে। (চলবে)

পরবর্তী পর্বত আগামী শুক্রবার ২৯ মে,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *