*

দিগদর্শন ওয়েব ডেস্ক: বঙ্গসন্তান সুবীর রায়চৌধুরী। উত্তরবঙ্গের ভূমিপুত্র সুবীর রায়চৌধুরী ছিলেন শিলিগুড়ির ডনবস্কো স্কুলের ছাত্র। কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রকের পরিচালনাধীন ইনস্টিটিউট অফ হোটেল ম্যানেজমেন্টের স্নাতক। মাদুরাই কামরাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ইংলিশ। আর্থিক সংস্থায় ২৪ বছরের অভিজ্ঞ্যতা। পাঁচতারা হোটেলের বিভাগীয় দায়িত্ব পালনের শেষে যুগোপযোগী স্বাধীন পেশায় অবতরণ। গড়ে তুলেছেন প্রগ্রেসিভ ইনোভেটরস্ প্রাইভেট লিমিটেড।শিল্প দুনিয়ায় আই এস ও শংসাপত্র, সামাজিক মান নির্ধারণ এবং হিসাব নিরীক্ষণ ও হাতে কলমে প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে এক ভরসাযোগ্য প্রতিষ্ঠান গড় তুলে বাংলায় প্রথম সারিতে স্থান করে নিয়েছেন সুবীর রায়চৌধুরী। সোমবার বিকেলে দক্ষিণ কলকাতার নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজন করেনএক সাংবাদিক সম্মেলন।
সুবীর রায়চৌধুরী বলেন, সম্প্রতি তিলজলার চামড়ার ব্যাগ তৈরি কারখানায় এক ভয়াবহ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রথমে দুজন পরে হাসপাতালে একজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। তদন্তে উঠে আসে ব্যবসায় ন্যূনতম আইনি নির্দেশটুকু অমান্য করে বেআইনি বাড়িতে ব্যবসা চলছিল। প্রশাসনের নির্দেশে সেই বেআইনি বাড়ি ভাঙা হলো। কিন্তু সমস্যার সমাধান হলো না। রাজ্যে এরকম বহু বেআইনি কারাখানায় শুধুমাত্র ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে বেআইনি ব্যবসা চলছে। যা আসলে শিল্প নিরাপত্তা সম্পর্কে ব্যবসায়ীদের অজ্ঞতা ও উদাসীনতা।
প্রগ্রেসিভ ইনোভেটরস্ সংস্থার প্রাণপুরুষ সুবীর রায়চৌধুরীর বক্তব্য, বর্তমানে ভারত তথা বাংলায় আইনসম্মত শিল্পক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নেই। কিছু নথিভিত্তিক তথ্য ও বিভাগীয় পরিদর্শন তত্ত্বের ওপর নির্ভরশীল। বাস্তবিক যা সমস্যা ও বিপদ বাড়িয়ে তোলে। যখন কোনো অঘটন ঘটে প্রশাসনের টনক নড়ে। দেওয়া নেওয়ার এক অলিখিত চুক্তির মধ্য দিয়েআসলে শিল্পক্ষেত্র এক বারুদের স্তুপে বসে আছে। দরকার সেডেক্স ফোর পিলার অডিট। যা সরাসরি রাজ্য সরকারের দপ্তরে রেকর্ড থাকবে। এই রিপোর্টে কর্মক্ষেত্রে শ্রমিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, জরুরি অবস্থার মোকাবিলা, শ্রম আইন মেনে চলা , পরিবেশবান্ধব ক্ষেত্র প্রস্তুত করা, বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাগ্রহণ করা, ব্যবসায়িক নৈতিকতা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সামগ্রিক পরিচালনা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। এই সেডেক্স অডিট আদতে একটি আন্তর্জাতিক সামাজিক নিরীক্ষা পদ্ধতি।
সুবীরবাবুর মতে, এই সেডেক্স রিপোর্ট আবশ্যিক যদি প্রশাসন করে তাহলে প্রশাসন, শ্রমিক ও উদ্যোগীদের মধ্যে একটি ইতিবাচক প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠবে যা শ্রমিক নিরাপত্তা ও ব্যবসায়ীর আর্থিক নিরাপত্তা স্থাপনে হবে। প্রশাসনের উচিত সেডেক্সভিত্তিক একটি বাধ্যতামূলক আবশ্যিক অডিটের স্বীকৃতি দেওয়া। শ্রমিকের স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় মালিকপক্ষ যেমন উদাসীন তেমন উদাসীন শ্রমিকও। শ্রমিকেরা নির্দিষ্ট শ্রমমূল্যে কাজের বদলে চুক্তিভিত্তিক পণ্য উৎপাদনে উৎসাহী। যা মালিক -শ্রমিক উভয়ের জন্য দীর্ঘকালীন ইতিবাচক পদক্ষেপ নয়। দরকার ব্যবসায়ী শ্রমিক ও প্রশাসনের একটি ত্রিপাক্ষিক পরিকল্পনা।
কিন্তু এই প্রতিবেদকের প্রশ্ন ছিল, তথাকথিত স্বাধীনতার পর থেকেই রাষ্ট্র বৃহৎপুঁজির স্বার্থ রক্ষায় আইন প্রণয়ণ করে। ইলেক্ট্রোরাল বন্ড যার জ্বলন্ত উদাহরণ। অস্বীকারের উপায় নেই ৪৪ টি শ্রম আইন যা এতদিন যে নুন্যতম শ্রমিক স্বার্থ রক্ষা করত বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার সেই ৪৪ টি আইন ৪ টি শ্রম কোডে বেঁধে দিয়েছে। এই চারটি কোডের সবথেকে ভয়াবহ নির্দিষ্ট মেয়াদি চাকরি। অর্থাৎ মালিকেরা ইচ্ছে মত নিয়োগ ও ছাঁটাই করতে পারবে। ২০১৯ সালের ১০ জুলাই জাতীয় স্তরে ১৭৮ টাকা দিন মজুরি বেতন হিসেবে ঘোষণার করেছে।অথচ দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর থেকে বেশি মজুরি শ্রমিকেরা পেয়ে থাকেন। প্রভিডেন্ট ফান্ডে মালিকদের জমার পরিমাণ ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করে দেওয়া হয়েছে। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে যখন ৬ ঘণ্টা শ্রমের স্বীকৃতি সেখানে ফ্যাক্টরি আইনে ৫১ নং ধারায় সপ্তাহে ৪৮ ঘন্টা কাজের কথা বললেও ওয়েজ কোডে অর্থাৎ বেতন নিরিখে ৯ ঘণ্টা কাজের কথা বলা হয়েছে।
শ্রমিকের আন্দোলনের অধিকার দেয় যে ট্রেড ইউনিয়ন সেক্ষেত্রেও সংকুচিত করা হয়েছে যাতে বেশি সংখ্যায় শ্রমিক যেন ঐক্যবদ্ধ না হতে পারে। এদেশে একদিকে শিশু শ্রম নিষিদ্ধ বলে নতুন শ্রম আইনে ২০নং ধারায় বলা হয়েছে যে কোন মালিক ১৪ বছর বয়সী শ্রমিককে রেজিস্টার্ড ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য হিসেবে মেনে নেবে। সুতরাং ছোট বড় যে কোনো ফ্যাক্টরির মালিক তাঁর মালিক চরিত্র বজায় রেখে লাভের লাভ মুনাফার খোঁজে শ্রমিক নিরাপত্তায় যেচে উদ্যোগী হবে না। রাষ্ট্রও বৃহৎ পুঁজির সহযোগী ছোট পুঁজির উদ্যোগী কর্পোরেট কায়দার কাছে আত্মসমর্পণ করে চলবে। সুতরাং আট মণ তেলও পুড়বে না। রাধাও নাচবে না। অর্থাৎ শ্রমিকের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিয়ে কেউই চিন্তিত হবে না। এই প্রশ্ন থাকল সুবীরবাবুর কাছে।
