*

দিগদর্শন ওয়েব ডেস্ক: বাংলার আদি যুগ থেকেই রান্নাঘর হেঁসেল নামে পরিচিত। সেই হেঁসেলের রান্না ছিল মূলত আমিষ। চৈতন্যদেবের হাত ধরে মধ্যযুগে বাঙালির হেঁসেলে নিরামিষ স্থান করে নেয়। ব্রিটিশ উপনিবেশের প্রভাবে বাবুর্চি আর কুক শব্দের ব্যাপক ব্যবহার সঙ্গে রন্ধন প্রতিযোগিতা। এই মুহূর্তে কলকাতায় মাতৃদিবস স্মরণে রেখে মায়ের হাতের রান্না প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।জুরি ছিলেন রন্ধনপটিয়সী বিপাশা মুখার্জি।
বিপাশা জানালেন, নারীদের পাশাপাশি পুরুষেরা রান্নায় আগ্রহে দেখাচ্ছেন অনেকদিন হলো। কিন্তু ইতিহাস বলছে মঙ্গল কাব্যে রাঁধুনি ধর্মকেতুর উল্লেখ মেলে। অবশ্যই ভোজনবিলাসী হওয়ার সূত্রেই পুরুষের রন্ধনশিল্পী হয়ে ওঠা। মহাভারতে তো ভীম অজ্ঞাতবাসে বল্লভ নামে হেঁসেলে চাকরি নেন। তপন সিনহার গল্প হলেও সত্যি ছবিতে রাঁধুনি রবি ঘোষ ওরফে ধনঞ্জয়কে কে না চেনেন? সুতরাং অনুষ্ঠানের নাম মায়ের হাতের রান্না হলেও রান্নার রসায়নাগারে বিশ্ব জুড়ে প্রাধান্য কিন্তু পুরুষেরই ।

মায়ের হাতের রান্না অনুষ্ঠানের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। কিন্তু সঞ্চালিকার অযোগ্য সঞ্চলনা আর ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনাহীনতা প্রতি মুহূর্তে ফুটে ওঠে। সঞ্চালিকা বাসনার সেরা বাসা রসনা কথার উল্লেখ করে বলেন কথায় আছে। ওঁর হয়ত জানা ছিল না শব্দবন্ধ কোনো প্রবাদ নয়। সৃষ্টিকর্তা রবীন্দ্রনাথ। একটু পড়াশুনো করে রান্না সংক্রান্ত শো’তে সঞ্চালনা করলে আকর্ষণীয় হতো। চরম বিশৃঙ্খল অবস্থায় প্রতিযোগিতারা রান্না করলেন । প্রতিযোগীরা জানালেন না তাঁদের পরিচয়। প্রতিযোগিতায় তাঁরা যেসব পদ রান্না করলেন জানা গেল না কেন সেইসব পদ নির্বাচন। আনুষ্ঠানিক ভাবে জুরি প্রতিযোগীদের কি জানতে চাইলেন তাও জানা গেল না।
আয়োজক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে আছেন সোমা চক্রবর্তী, পিয়ালী গোস্বামী, স্বাতী দাস চক্রবর্তী, মৌমিতা চক্রবর্তী, সুনন্দা ব্যানার্জি প্রমুখ। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্যায়ে চিল্ট ফ্যাশন শো। প্রধান অতিথি ছিলেন অভিষেক রে। পরামর্শ রইল আগামীদিনে একটি পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে এমন অনুষ্ঠান আকর্ষণীয় করে তুলবেন।
