শিরোনাম

বাঙালির ইতিহাস ও বহিরাগত তত্ত্ব

*

বারো ভূঁইয়া ওসমান খাঁ।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : ওসমান খাঁ -এর মৃত্যুর ঘটনা বেশ রোমাঞ্চকর। মোঘলদের সঙ্গে ১৬১২ খ্রিস্টাব্দের ১২ মার্চ রবিবার সকাল থেকেই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। ওসমান খাঁয়ের রণকৌশলে বহু মোঘল সেনার মৃত্যু হয়। মোঘল সেনা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। সেইসময়ে ঘটে যায় এক নাটকীয় ঘটনা। এক মোঘল অশ্বারোহী সেনা শেখ আব্দুল জলিল তাঁর সেনানায়ক ইফতিখার খাঁনের হত্যার বদলা নিতে দ্রুত ঘোড়া ছুটিয়ে পৌঁছে যান যুদ্ধরত ওসমান খাঁ লোহানীর মুখোমুখি। ওসমানের মাথা লক্ষ্য করে ছোঁড়া তির ওসমানের বাঁ চোখ বিদ্ধ করে। ওসমান খাঁ হাত দিয়ে সেই তির টেনে বার করেন। তিরের সঙ্গে বেরিয়ে আসে তাঁর চোখ। রুমাল দিয়ে সেই চোখ বেঁধে শত্রুকে বর্শা বিদ্ধ করে মেরে ফেলেন। ওসমান খাঁ ছিলেন হাতির পিঠে। কিছুক্ষণের মধ্যে অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণে যুদ্ধক্ষেত্রেই মারা যান ওসমান খাঁ লোহানী। ইতিহাস থেকে মিলিয়ে যান বারোভূঁইয়ার অন্যতম ব্যাক্তিত্ব।

রাজা কংসনারায়ন ( কল্পিত)

এরপর বলতে হয় বারোভূঁইয়ার অন্যতম কংসনারায়ণ রায়ের কথা। রাজা কংসনারায়ণ শুধু বারোভূইয়ার অন্যতম নন , তাঁর পরিচয় বাংলায় প্রথম দুর্গাপুজোর প্রবর্তক হিসেবে। সময়টা ১৫৮০। বারুনী নদীর পূর্বতীরে রাজারামা গ্রাম ( তাহেরপুর) ছিল কংসনারায়ণ রাজবংশের আদি নিবাস। নদী ভাঙনের জন্য পরবর্তী সময়ে নদীর অপরপাড়ে গড়ে তোলেন রাজপ্রাসাদ। এই বংশের প্রথম পুরুষ ছিলেন সংস্কৃত গ্রন্থ বেণীসংহার রচয়িতা ভট্টনারায়ণ। যিনি ছিলেন বারেন্দ্র ব্রাহ্মণ। রাজা কংসনারায়ণ আয়োজিত প্রথম দুর্গাপুজোয় খরচ হয়েছিল ৯ লক্ষ টাকা। আজকের হিসেবে কয়েক কোটি টাকা।

রাজা ভবানন্দ মজুমদার।

ই ঘটনার কিছু পরে ১৬০৬ সালে নদীয়াধিপতি ভবানন্দ মজুমদার রাজধানী কৃষ্ণনগরে দুর্গাপুজোয় প্রচলন করেন। ভবানন্দ মজুমদার কিন্তু ইতিহাসে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছেন। সেই প্রসঙ্গ পরে বলছি। বারোভূঁইয়ার সর্বশেষ নাম ভুলুয়ার অধিপতি লক্ষ্মণ মানিক্য। বাংলাদেশের এখনকার নোয়াখালির সাবেকি নাম ছিল ভুলুয়া। ভুলুয়া রাজবংশের সবচেয়ে সফল রাজার নাম লক্ষ্মণমানিক্য। রাজ্যের আয়তন ছিল প্রায় ৬৩৫ কিলোমিটার। তথ্য বলে, এই রাজার পূর্বপুরুষ ছিলেন ক্ষত্রিয় আদিসুর। তিনিই নাকি উত্তরপ্রদেশ থেকে প্রথম পাঁচজন বৈদিক ব্রাহ্মণ বাংলায় নিয়ে আসেন।( চলবে )

পরবর্তী পর্ব আগামী শনিবার ২৩ মে,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *