বেশ্যার বারমাস্যা

কানবেরা জাতকে কালী গণিকার উল্লেখ আছে।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : গণিকা সংক্রান্ত আদি সাহিত্যে কালী গণিকার কথা আছে। যা গত পর্বে আলোচনায় এনেছি। কালী গণিকা যখন তার ভাই তুণ্ডিলকে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দেয় তখন কালীর এক প্রেমিক দয়াপরবশ হয়ে তার জন্য কালীর করুণা প্রার্থনা করে ব্যর্থ হয় এবং ঐ প্রেমিককে বলে যে সে তুণ্ডিলকে যা ইচ্ছা তাই দিতে পারে। আগেই জানিয়েছি এসব তথ্য সংগ্রহ করেছি সুরেশচন্দ্র বন্দোপাধ্যায় এবং রমলাদেবী সংকলিত ভারতীয় সমাজে প্রান্তবাসিনী গ্রন্থ থেকে। প্রকাশক সংস্কৃত পুস্তক ভাণ্ডার।

জাতক কাহিনীর অন্যতম চরিত্র গণিকা কালী।

লেখকদ্বয় আরও লিখেছেন, জনৈক কাহিনীকার বেশ্যাদের সম্বন্ধে অবজ্ঞা ব্যক্ত করেছেন তাদের এইভাবে বর্ণনা করে ( ঐ / পৃষ্ঠা ২২৬) বিষাক্ত পানীয় , নৃশংস দস্যু, মৃগ শৃঙ্গবৎ কুটিল, দুষ্ট জিহ্ব সর্প, দাম্ভিক বণিক, তৃণচ্ছন্ন গর্তের মতো মারাত্মক , নরকের তৃপ্তিহীন পাকস্থলী , লুব্ধ পিশাচ, সর্বহারী মৃত্যু, অগ্নিশিখাবৎ সর্বগ্রাসী , বায়ু বা বন্যার মতো শক্তিশালী, সদসদ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর, বিষবৃক্ষের মতো ভয়ংকর , সর্বশ্বনাশক।

বিনয় পিটক গ্রন্থে উচ্চ শ্রেণীর ও নিম্নশ্রেণীর আলাদা গণিকার উল্লেখ আছে।

জাতক পাঠে জানা যায় যে, সমাজে উচ্চ শ্রেণীর গণিকা যেমন ছিল তেমনই ছিল নীচ শ্রেণীর বেশ্যা। ধনাঢ্য ব্যক্তিরা প্রচুর অর্থদানে তাদের সম্ভোগ করতেন। রূপমাত্রে আকৃষ্ট হয়ে তাদের মধ্যে কেউ কেউ দুর্বিত্ত লোভীর প্রেমে পড়ে প্রচুর লাঞ্ছনা ভোগ করেছে, শুধুমাত্র মৃত্যুর কবল থেকে ত্রাণ পেয়েছে। স্বল্পকাল সম্ভোগের জন্য নিযুক্ত রূপাজীবীকে বলা হয় মুহুত্তিকা ( বিনয়পিটক ৩/১৩৮)। বিনয়পিটকের (২/২৬৭) সাক্ষ্য থেকে মনে হয় কেউ কেউ লাভের জন্য বেশ্যালয় রাখত। কথিত আছে , যে ছয়জন পতিতা ভিক্ষুণী একটি বেশ্যাগার চালাত। (চলবে)।

পরবর্তী পর্ব আগামী শুক্রবার ১৫ মে,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *