বাঙালির ইতিহাস ও বহিরাগত তত্ত্ব

কেদার রাজা আকবরের বশ্যতা স্বীকার না করায় ষড়যন্ত্র করে মানসিংহ তাঁর মুণ্ডচ্ছেদ করেন।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : কেদার রাজার মৃত্যু নিয়ে রয়েছে ভিন্ন মতামত। কেউ বলেন, মোঘলদের সঙ্গে তিনবার ভি জিতলেও চতুর্থবারে কামানের গোলায় নিহত হন কেদার রায়। কেউ বলেন, মোঘলদের সঙ্গে চতুর্থবারের যুদ্ধের দশমদিনে সকালে কেদার রায় তাঁর ইষ্টদেবী ছিন্নমস্তার পুজো করছিলেন ধ্যানস্থ হয়ে। সেই সময়ে গুপ্তঘাতককে দিয়ে তাঁর মুণ্ডুচ্ছেদ করেন মানসিংহ। এই বিষয়ে আগেই উল্লেখ করেছি।

বারোভূঁইয়া কন্দর্প রায়।

বাংলারআর এক ভূঁইয়া ছিলেন দুইভাই কন্দর্প রায় ও রাম রায়। এঁরাও দক্ষিণী সেন বংশেরই বংশধর। চন্দ্রদ্বীপের ( বরিশাল) শাসক কন্দর্প রায় ছিলেন বংশের নবম শাসক। তাঁর রাজত্বকাল ছিল ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে n১৫৯৮। জগদানন্দ রায়ের পুত্র বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা ছিলেন। এমনটাই মনে করেন ঐতিহাসিকেরা। কন্দর্প রায় ১৫৮৪ সালে সিংহাসনে বসার সময় প্রবল জলোচ্ছাসে মারা যান হাজার হাজার মানুষ। মৃতদেহের স্তূপ রাজ্য জুড়ে। অন্যদিকে আশ্রয়হীন মানুষদের অন্নবস্ত্র নিয়ে হাহাকার। কঠোর হাতে পরিস্থিতির মোকাবিলা করেন তিনি।

বারোভূঁইয়াদের অন্যতম প্রতাপাদিত্য।

সেইসময় পাঠানরা কন্দর্প রায়কে মোঘলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সাহায্য চায়। কিন্তু মোঘলদের সঙ্গে আজীবন সন্ধি করে চলেন কন্দর্প রায়। যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্যের সঙ্গে বন্ধুত্বের সুবাদে সন্ধি ছিল। প্রতাপাদিত্যের কাকা বসন্ত রায় বিয়ে করেছিলেন কন্দর্প রায়ের বোন কমলাকে। প্রতাপাদিত্য তাঁর পুত্র রামচন্দ্রের বিয়ে দেন কন্দর্প কন্যা বিভার। দুজনেরই বয়স তখন পাঁচ। কন্দর্পকান্তি যৌতুক হিসেবে প্রতাপাদিত্য নিজের রাজ্যের কিছু অংশ দিয়ে দেন। (চলবে)

পরবর্তী পর্ব, আগামী রবিবার,৩ মে,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *