বেশ্যার বারমাস্যা

পর্ব:২৫৩

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: অক্ষয় দত্ত মহাশয় ‘ভারতবর্ষীয় উপাসক সম্প্রদায় ‘ গ্রন্থে লিখেছেন যে, আউল সম্প্রদায়ের অপর নাম সহজ কর্তাভজা। তাঁর মতে অন্য কোন সম্প্রদায়ে প্রকৃতি সাধন বিষয়ে এত উদারতা লক্ষিত হয় না, কি প্রকাশ্য, কি অপ্রকাশ্য, ইচ্ছানুরূপ বহুতর বারাঙ্গনা ও গৃহঙ্গনা ইহাদিগের সাধন সম্পাদনে নিয়োজিত হইয়া থাকে। এমনটাই উল্লেখ করেছেন ভারতীয় সমাজের প্রান্তবাসিনী গ্রন্থের লেখকদ্বয় সুরেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ও রমলাদেবী।

লেখকদ্বয় লিখেছেন, বঙ্গদেশের পল্লী অঞ্চলে হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে গৃহী ও সন্ন্যাসী ফকির রূপে বিরাজমান এক গায়ক শ্রেণীর লোক বাউল নামে অভিহিত। ‘গুণরাজ খান’ উপাধি মণ্ডিত মালাধর বসুর ‘শ্রীকৃষ্ণ বিজয়’ ( ১৫০০ খ্রিষ্টাব্দ) গ্রন্থে বাউল শব্দটি আছে। সুতরাং এই সম্প্রদায় যে অন্তত পঞ্চদশ শতকে ছিল তাতে সন্দেহ নেই। বাউল শব্দের মূল বাতুল অর্থাৎ পাগল। বাউলদের এই নামের তাৎপর্য বোধ হয় এই যে,এটা পাগলের মতো গান গেয়ে ঘুরে বেড়াত; এদের অনেকের ঘরবাড়ি ছিল না। এরা অবশ্য ভাবের পাগল।

১৫০০ শতকের বাউল।

এদের সাধন বৈশিষ্ট্য হল উল্টা সাধন, অর্থাৎ যোগসাধনায় নিশ্বাস- প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ ( প্রাণায়াম) করে উল্টো পথে প্রবাহিত জরায়ু। এরা বেদ , কোরাণ, পুরাণাদিতে বিহিত ধর্ম সাধনের পক্ষপাতী নয়। মোল্লা, পুরোহিত, মসজিদ, মন্দির, পূজা সমাজ প্রভৃতি কিছুই এরা মানে না। প্রচলিত অর্থে ভোগ ও বাসনামুক্ত জীবন এদের কাম্য নয়। (চলবে)

পরবর্তী পর্ব আগামী সোমবার,২১ সেপ্টেম্বর,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *