শিরোনাম

প্রাকৃতিক চুল রপ্তানিতে ভারত এগিয়ে

*

দিগদর্শন ওয়েব ডেস্ক: চেয়ারম্যান অলোক টিব্রেওয়ালার উদ্যোগে প্ল্যাস্টিক এক্সপোর্ট প্রকোশন কাউন্সিল এর তরফে মধ্য কলকাতার এক বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেলে হয়ে গেল হিউম্যান হেয়ার এক্সপোর্টার্স মিট ২০২৬। এই সেমিনারে আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল ভারত সরকারের নিরত বন্ধু স্কিম । ফোকাস প্রাকৃতিক চুল , পূর্ব মেদিনীপুর ও মুর্শিদাবাদ। অনুষ্ঠানের মুখ্য অতিথি ছিলেনঅশোক দিন্দা। ছিলেন চণ্ডীপুরের নবনির্বাচিত বিধায়ক ডাঃ পীযূষকান্তি দাস। এম এস এম ই ডিরেক্টর ইউ স্বারুম, অনিলকুমার, এস কে মুকুল আলী প্রমুখ।

রাজ্য সরকারের অন্যতম মন্ত্রী অশোক দিন্দা বলেন, বাংলার গ্রামেগঞ্জের মা বোনেরা প্রাকৃতিক চুলের প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানিযোগ্য করে তুললেও ন্যায্য মজুরি বথেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।পরিকাঠামোগত দিকটিও পূর্বতন সরকার অবহেলা করেছে। চুল রপ্তানিকারীরা পরিকাঠামো ও আইনি সুরাহার জন্য লিখিত পরিকল্পনা দিলে আমি প্রশাসনিক স্তরে প্রকল্প বাস্তবায়িত করার চেষ্টা করতে পারি। দিগদর্শনের তরফে প্রশ্ন রাখা হয় এই প্রাকৃতিক কেশনির্মাণকারীরা প্রকৃত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিবেশদূষণ থেকে নিজেকে এবং অঞ্চলকে কীভাবে মুক্ত করবেন প্রশাসনিক স্তরে কি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে? জবাবে মন্ত্রী জানালেন , বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। নিশ্চয়ই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

চণ্ডীপুর বিধানসভার নবনির্বাচিত বিধায়ক ডাঃ পীযূষকান্তি দাস বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম সহায়ক হয়েছেন প্রাকৃতিক চুল প্রক্রিয়াজাত কর্মীরা। আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিবেশ দূষণমুক্তভাবে এই শিল্প বিকশিত হোক সেটাই আমাদের কাম্য।
অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয় প্রাকৃতিক চুল প্রক্রিয়াজাত পদ্ধতি সম্পর্কে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের তথ্যচিত্র।

জীবনানন্দ বলেছিলেন, চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা। উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের আমলে সোনালী চুলের কদর বেশি থাকলেও তিনি নারীর কালো চুলের অনুরাগী ছিলেন। ফরাসি কবি বোদলেয়ার নারীর মাথার এক ঢাল চুলকে সমুদ্রের গভীরতার সঙ্গে তুলনা করেছেন। চিলির মহান কবি পাবলো নেরুদা লিখেছিলেন, আই লস্ট মাইসেলফ ইন ইয়োর হেয়ার, আই ফেল ইনটু ইয়োর হেয়ার।

বাঙালি চুলের পরিচর্যা করছে খ্রিস্টপূর্ব দেড় হাজার বছর আগে থেকেই। শুনলে অবাক লাগবে বাঙালি শেখ দিন মোহাম্মদ প্রথম ব্রিটেনে বাণিজ্যিক ভাবে শ্যাম্পু দিয়ে ভেপার বাথ ও মাথা ম্যাসাজ প্রথা চালু করেন। হাওড়ার জগদীশপুর গ্রামের এক বাসিন্দা আজ থেকে ৭০বছর আগে মাদ্রাজে মন্দিরে চুলদান নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে জানলেন চুলের ব্যবসায় কথা। হাওড়ার গ্রামীণ এলাকায় তাঁর উদ্যোগেই শুরু চুলের ব্যবসা। এই মুহূর্তে হাওড়া, পূর্ব মেদিনীপুর, নদীয়া ও মুর্শিদাবাদে মানুষের ফেলে দেওয়া চুলের এক কুটির শিল্প গড়ে উঠেছে।

দেশ ছাড়িয়ে চুলের বাজার চীন,ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মালয়শিয়া আমেরিকা ও ইউরোপে পৌঁছে গেছে। কুড়িয়ে পাওয়া বা বাড়ি, সেলুন থেকে সংগৃহীত চুলের কেজি প্রতি দর যেখানে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা সেখানে প্রক্রিয়াজাত চুলের দাম ১৫ থেকে ২০ হাজার। আবার রিমি অর্থাৎ কেমিকালবিহীন লম্বা শিকড়সহ চুলের দাম কেজি প্রতি ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। ভারত থেকে রপ্তানিকৃত প্রাকৃতিক চুল ২০২৫ এ রপ্তানি হয়েছে ৯৪৮ মিলিয়ন ডলার। উদ্যোক্তাদের পক্ষে জানানো হয় শিল্প নীতির কিছু পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করে মেক ইন ইন্ডিয়া গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা আমরা নেবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *