পর্ব: ২৪০

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: ১৯ শতকের উত্তরবঙ্গের কবি গোপীচাঁদ তার গানে হীরা নটীর ছলাকলা, যাকে গ্রাম্য বাংলায় ছেনালী এবং হিন্দিতে যাকে বলে নখরে , তার বর্ণনা আছে। কবি লিখেছেন, যখন হীরা নটী রাজাকে পাইল। খটমট করিয়া নটী হাসিয়া উঠিল।। নটী: না তিনি না পুরুষ রাজাক করাইল। নটীর অঙ্গসজ্জার বিবরণও দিয়েছেন কবি। কাকেয়া কাকেয়া নটী চুলের ভাঙ্গে জালি। সিঁথার গোড়ে পিন্ধিলে মুক্তা সারি সারি।। মাঝ কপালে তুলিয়া বিন্ধে তিলকের নয়টা ফোঁটা। তার পশ্চাতে পিন্ধে খোঁপা গুঞ্জরি ভোমরা। সন্ধ্যা হৈলে ভোমরা লাগায় কলহার। একখান খোঁপায় কৈল্লে তিনখান দুয়ার।

গোর্খা বিজয় গ্রন্থে নৈতিকশিথিলতা, স্খলন ও ব্যভিচারের উল্লেখ আছে। মীননাথ শিষ্য পুত্রবধূ’র পরিচয় না জেনে তার প্রতি কামাতুর হয়ে বলছেন কাঞ্চলি ফাড়িমু তোর খসামু কবরী। আমার ঘরেতে আসি যাইতে চায় ফিরি।। আত্মমর্যাদা জ্ঞানসম্পন্ন নারী উত্তরে বলছেন তোমার শিষ্য পুত্রবধূ আক্ষিত নিশ্চিত। না বোল না বোল বাপু এসব কুৎসিত।
ষোল শ কদলী লৈয়া কেলি নিরন্তর অজ্ঞান হইলা গুরু কৈলা কুকাম কদলীত আসিয়া পাইলা উপভোগ। কামিনীর কোল পাইয়া পাসরিলা যোগ, ভুলেতে পরিল মীন মঙ্গলার আলাপে প্রভৃতিতে নারীর প্রতি আসক্তি , নারী সংভোগ প্রভৃতির স্পষ্ট উল্লেখ আছে।

নারীরা কিভাবে পুরুষদের মন ভোলায়, তার বর্ণনাও আছে। ষোলশত কদলী মিলি হাত পায় চাপে। মীনের কোলেতে তবে বিন্দুনাথ দিয়া, মঙ্গলা কমলা বৈসে দুইদিগে চাপিয়া। ললিত মঙ্গল কথা ঝাড়িয়া বান্ধে কেশ, দুই পায়ে নূপুর দিয়া ধরে মোহন বেশ। সকল যুবতীগণ আছে চারিপাশে, নানা মতে সেবা সেবে করি পরিহাসে। কেহ চামর ঢোলা একার হাতে ঝারি, গন্ধপুষ্প কস্তুরী চন্দন আনে ভরি। নানা বেশে কন্যা সবে আছে সারি সারি, তাম্বুল যোগায় কেহ সুবর্ণ বাটা ভরি। এরকম বহু মঙ্গলকাব্যে গণিকা উল্লেখ আছে। ময়নামতীর গান, মানিকচন্দ্র রাজার গান ভি ইত্যাদি নাথ সাহিত্যে হীরা নটিনীর উল্লেখ মেলে। গোরক্ষ ওবিজয় ও মীনচেতন গ্রন্থে এক গণিকা যোগিনী রূপে বর্ণিত হয়েছে।( চলবে)
