শিরোনাম

বাঙালির ইতিহাস ও বহিরাগত তত্ত্ব

পর্ব:২৩২

মুর্শিদকুলি খান।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: বর্ষপঞ্জির হিসেবে বাহাদুর শাহ পুত্র আজম খানের উত্তরসূরির কথা যদি বলতে হয়, তবে নাম আসে মুর্শিদকুলি খানের। তাঁর বাংলা রাজত্বকাল ১৭১৭ থেকে ১৭২৭। মাত্র ১০ টি বছর মুর্শিদকুলি খান ছিলেন বাংলার আওরঙ্গজেব পরবর্তী স্বাধীন নবাব। তাঁর জন্মবৃত্তান্ত নিয়ে কিছু বিতর্ক আছে। বলা হয়, তিনি ছিলেন উড়িষ্যার এক ব্রাহ্মণ পরিবারের দরিদ্র বংশের সন্তান। দাস হিসেবে তিনি শৈশবে বিক্রি হয়ত যান। তাঁকে কিনে নিয়েছিলেন পারস্যের এক বণিক ইসফা খান। তিনি তাঁকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করেন। নাম রাখেন মির্জা হাদি।

সুজাউদ্দিন মুহম্মদ খান।

যৌবনে ভারতে এসে আওরঙ্গজেবের অধীনে চাকরি নিয়েছিলেন। আবার কেউ বলেন, মুর্শিদকুলি খান ছিলেন মারাঠা জেনারেল মুহাম্মদ কুলী খানের নাতি। মুর্শিদকুলি খানের জামাই সুজাউদ্দিন মুহম্মদ খান ছিলেন পূর্ববর্তী বাংলার নবাব। তিনি মুর্শিদকুলি খানের কন্যা জয়নুরউন্নিশা বেগম ও আজমতউন্নিশা বেগমকে বিয়ে করেন। তাঁর তৃতীয় স্ত্রী ছিলেন দূরদানা বেগম সাহিবা।১৭২৭ খ্রিস্টাব্দের ৩০ জুন মুর্শিদকুলি খানের মৃত্যুর পর বাংলার সিংহাসনে বসেন।

সরফরাজ খান।

মুর্শিদকুলি খানের পুত্র না থাকায় নাতি সরফরাজ খানের সিংহাসনে বসার কথা। কিন্তু জীবিত অবস্থায় পুত্রের অধীনে থাকতে নারাজ সুজাউদ্দিন খান। বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে পুত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার অবস্থা তৈরি হয়। পিতা পুত্রের যুদ্ধ রুখতে তিন স্ত্রী দুজনকে নিয়ে বৈঠকে বসেন। শেষ পর্যন্ত পিতাকে সম্মান জানিয়ে পুত্র সিংহাসনের দাবি ত্যাগ করেন।১৭২৭ সালে বাংলার নবাব হন সুজাউদ্দিন। সেটাই চেয়েছিলেন মোঘল সম্রাট মোহাম্মদ শাহ। ফলে বাংলার নবাব হয়েই সুজাউদ্দিন মোঘল সম্রাটকে নজরানা পাঠান। পাল্টা সম্মান জানিয়ে মোঘল সম্রাট সুজাউদ্দিনকে মুতামূলমুলক ( দেশের কর্তা) সুজাউদুল্লাহ ( রাষ্ট্রের নায়ক) ও আসাদ জং ( যুদ্ধের সিংহ,) উপাধি প্রদান করেন। পাঠান প্রচুর উপঢৌকন। (চলবে)

পরবর্তী পর্ব আগামী রবিবার ও২ আগস্ট,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *