
মনু স্মৃতি গ্রন্থে দাসী সম্ভোগের নিদান আছে।
সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: স্ত্রী সম্ভোগের ব্যাপারে বঙ্গীয়বেত্তারা এমন কিছু স্বাধীনতা দিয়েছিলেন, যা কিছু আধুনিক রুচিবহির্গত এবং অপরাধের হিসেবে বিবেচিত হয়। তাঁদের মতে প্রাচীন শাস্ত্রে ( মনু বিধান) অনুসরণে ব্রাহ্মণের পক্ষে মুদ্রাবিবাহ নিষিদ্ধ হলেও দাসীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে অপরাধ ছিল না।

জীমূতবাহন অবৈধ সন্তানের পৈতৃক সম্পত্তির অধিকার দেন।
আধুনিক দৃষ্টিতে এটি নৈতিক v শিথিলতার অপর একটি উদাহরণ। শূদ্রদের ঔরসে ও দাসীর অথবা অপর কোন অবিবাহিতা নারীর গর্ভজাত পুত্রের জন্য পিতার অনুমতিক্রমে পৈতৃক সম্পত্তিতে অন্য পুত্রের তূল্য একটি ভাগের ব্যবস্থা জীমূতবাহন স্পষ্ট করে দেন। এরফলে সেই পুত্রের স্বীকৃতি সমাজে মেলে। অর্থাৎ অবৈধ জন্মের জন্য পুত্রের কোনো ভূমিকা থাকে না। সুতরাং তারা কেন বঞ্চিত হবে এই যুক্তি প্রতিফলিত হয়।

ইদিলপুর লিপি।
সন্ধ্যাবেলা রাজপ্রাসাদে বা রাজধানীতে বেশবিলাসিনীজনের মঞ্জীর মঞ্জুস্বনে আকাশ মুখর হ’ত বলে জানা যায় কেশবসেনের ইদিলপুর লিপি ও বিশ্বরূপসেনের সাহিত্যপরিষদ লিপি থেকে। পবনদূত ও রামচরিতে সভাশোভিনীদের বর্ণনা আছে। ভবদেব ভট্ট বিষ্ণু মন্দিরে একশত দেবদাসীর অপরূপ রূপ যৌবনের উচ্ছসিত v বর্ণনায় লিখেছেন, এরা কামিজনের কারাগার এবং সঙ্গীতকেলিশ্রীর সঙ্গমগৃহ; এদের দৃষ্টিমাত্রে ভষ্মাবশেষ কাম পুনরুজ্জীবিত হয় (চলবে)।
