
জাহাঙ্গীরের ১৭ জন স্ত্রীর মধ্যে প্রিয় ছিলেন নূরজাহান।
সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : জাহাঙ্গীরের প্রথম স্ত্রী ছিলেন মাতুল ভগবান দাসের কন্যা মানাবাঈ। মানারপুত্র ছিলেন খসরুর। কিন্তু পিতা হয়ে পুত্র খসরুকে জাহাঙ্গীর হত্যা করলে মানা বাঈ আত্মহত্যা করেন।জাহাঙ্গীরের মোট স্ত্রীর সংখ্যা ছিল ১৭। তবে সবচেয়ে প্রিয় ছিলেন অসাধারণ সুন্দরী নূরজাহান। তিনি ধর্ম সম্পর্কে পিতা আকবরের মতই উদার ছিলেন। মুসলিম শিয়া সুন্নি যেমন সমান মর্যাদা পেতেন তেমন তাঁর রাজত্বে হিন্দু ও খ্রিস্টান পাদ্রীরাও সম্মান পেতেন।

জাহাঙ্গীর পুত্র শাহজাহান।
১৬২৭ সালে জাহাঙ্গীর স্বাস্থ্যরক্ষায় কাবুল ওর কাশ্মীর গিয়েছিলেন। কাশ্মীরেই তাঁর মৃত্যু হয়। মৃতদেহের প্রথমে কাশ্মিরের বাঘসরর দুর্গে দাফন করা হলেও পরে লাহোরের শাহদারা বাগে সমাহিত করা হয়। বাবর, হুমায়ূন, আকবর ও জাহাঙ্গীরের পর দিল্লির সুলতান হন জাহাঙ্গীর পুত্র শাহজাহান। জন্ম ৫ জানুয়ারি,১৫৯২। মৃত্যু ২২ জানুয়ারি ১৬৬৬ খ্রিষ্টাব্দে। ভারত শাসন করলেন ১৬২৮ থেকে ১৬৫৮ পর্যন্ত। ফার্সি শব্দ শাহজাহান অর্থ পৃথিবীর রাজা। মাতা রাজপুত রমণী তাজবিবি বিলকিস মাকানির।প্রথমে কৈশোরে শাহজাহানের নাম ছিল খুররম। জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর পর দিল্লির সিংহাসন নিয়ে জাহাঙ্গীরের দুই পুত্র শাহজাহান ও শাহরিয়ার বিরোধ শুরু হয়।

জাহাঙ্গীরের আমল থেকেই বাংলায় অত্যাচার শুরু করে পর্তুগিজ বণিকের ছদ্মবেশে জলদস্যুরা।
কিন্তু শাহজাহান শ্বশুর আসফ খানের পরামর্শের কূটনৈতিক কৌশলে সিংহাসন দখল করেন। বাংলার সুবেদার হিসেবে তাঁর রাজত্বে ছিলেন কাসিম খান। সময়কাল ১৬৩২ থেকে ১৬৩৫। ইসলাম খান মাশাহাদি ১৬৩৫ থেকে ১৬৩৯ এবং শহর সুজা ১৬৩৯ থেকে ১৬৬০।
হুগলিতে তখন বাণিজ্যের নামে লুট চালাতে থাকে পর্তুগীজরা। স্থানীয় মানুষ বিচ্ছিলেন্ট অত্যাচারিত। বাংলার বহুত নাগরিককে পর্তুগিজরা জোর করে দাস হিসেবে লাচার্ট করতে থাকে । জোর করে ধর্মান্তরিত করে তাঁদের খ্রিস্টান বানানো হতো। (চলবে )
