
আকবরের বাংলা দখল সহজে হয়নি।
সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : প্রতাপাদিত্যের কাছে বাংলায় মোঘল সেনারা যখন পরাজিত, তখন দিল্লিতে পুত্র সেলিমকে নিয়ে চিন্তিত সম্রাট আকবর।তাঁর ধারণা আল্লাহ দয়ায় তিনি পুত্র সেলিমকে পান আশীর্বাদ হিসেবে। এর আগে বহুবার আকবরের সন্তান জন্মালেও কেউ বাঁচের নি।১৫৬৯ সালে ৩০ আগস্ট আকবরের অন্যতম বেগম যোধা বাইয়ের গর্ভে জন্মান যুবরাজ সেলিম। আকবর পুত্র সন্তানের কামনায় পায়ের হেন্টার আজমীরের পীরবাবা সেলিম চিস্তির দরবারের যান। সেলিমের নতুন নামকরণ হয় জাহাঙ্গীর। শিক্ষাদীক্ষায় সেলিমকে জাহাঙ্গীর করে তুললেন আকবর। কিন্তু বিধির বিধান অন্যরকম। উচশৃঙ্খল সেলিমকে পছন্দ করতেন না আকবরের নবরত্ন সভার আবুল ফজল। তিনি পছন্দ করতেন না জাহাঙ্গীরকে । জাহাঙ্গীর ভবিষ্যতে সম্রাট হলে আবুল ফজল যেন কাঁটা না হন তাই তাঁকে গুপ্তঘাতক দিয়ে খুন করেন।

জাহাঙ্গীর পিতা আকবরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেও আত্মসমর্পণ করেন মানসিংহের কূটনৈতিক চালে।
সিংহাসন যেন হাতছাড়া না হয় তাই আকবর যখন দক্ষিণ ভারতে যুদ্ধে ব্যস্ত তখন বিদ্রোহ করে বসেন সেলিম ওরফে জাহাঙ্গীর। এলাহাবাদে তিনি স্বাধীনতা ঘোষণা করে দেন। আকবরের অনুগত সেনাপতি মানসিংহ সেলিম পুত্র খসরুকে সুলতান বানানোর উদ্যোগ নেন। সেলিম তাই বাধ্য হয়ে পিতা আকবরের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। পুত্রস্নেহে আকবর মাফ করে দেন জাহাঙ্গীরকে।

জাহাঙ্গীর যখন পিতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন তেমন জাহাঙ্গীর পুত্র খসরু জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। রাজত্ব হারানোর ভয়ে জাহানফোর্ট নিজের পুত্র খসরুকে অন্ধ করে দেন।
১৬০৫ খ্রিষ্টাব্দে ২৫ অক্টোবর আকবরের মৃত্যু হয়। সেলিম সিংহাসনে বসে প্রথমেই পুত্র খসরুকে অন্ধ করে দেন। মানসিংহের বিরুদ্ধে বদলা নিতে তাঁকে খুনের অন্য পরিকল্পনা করেন জাহাঙ্গীর। তাঁকে বাংলায় পাঠান বিদ্রোহী প্রতাপাদিত্যকে শায়েস্তা করতে। মানসিংহ বুঝলেন, সেলিম ওরফে জাহাঙ্গীর কৌশলে তাঁকে যুদ্ধে পাঠিয়ে মারতে চাইছেন।মানসিংহ প্রতাপাদিত্যের দুই বন্ধু রূপ রায় ও কচু রায়কে দলে টানলেন। সঙ্গে পেলেন প্রতাপাদিত্যের অন্নে পালিত ভবানন্দ মজুমদারকে। যুদ্ধ শুরু। কিন্তু এবারেও মানসিংহের পরাজয়। এবার কূটনৈতিক চাল দিলেন। মানসিংহ প্রতাপাদিত্যের রাজত্বে রটিয়ে দিলেন প্রতাপ যুদ্ধে নিহত। ফলে প্রতাপের সেনারা হীনবল হয়ে ভি ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল। (চলবে)
