
আকবরের নবরত্ন সভার অন্যতম আবুল ফজল বারোভূঁইয়াদের আরবি নামকরণ করেন’ ইসনা আসারা’।
সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: বারোভূঁইয়াদের অন্যতম রামচন্দ্র রায় স্ত্রী ও শ্যালকের সাহায্যে বন্দীদশা থেকে পালিয়ে গেলে প্রতাপাদিত্য পিছু ধাওয়া করলেও জামাইয়ের নাগাল পাননি। দুজনের সম্পর্ক পরে আর মধুর হয়নি। আবুল ফজল আকবরনামা গ্রন্থে এবংমির্জা নাথান বাহারিস্তান -ই গ্রন্থে বারোভূঁইয়া শব্দটি বোঝাতে আরবি শব্দ ‘ইসনা আসারা ‘ শব্দের উল্লেখ করেছেন। সেখানে তেরোতম রাজা রশিম খাঁ’র উল্লেখ আছে। কিন্তু এই তেরোতম রাজার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভবানন্দ মজুমদার বাংলার রাজাদের কাছে বিশ্বাসঘাতক?
আমরা বাংলার ইতিহাসে জেনেছি, বাংলার শেষ নবাব সিরাজদ্দৌলার সঙ্গী মীরজাফর বিশ্বাসঘাতক। মীরজাফর সম্পর্কে পরে আলোচনা করব। এখন ভবানন্দ প্রসঙ্গ। ভবানন্দ প্রসঙ্গ বলতে মনে পড়ে ছেলেবেলার এক ছড়া। ইকিড় মিকিড় চাম চিকির, চামে কাটা মজুমদার। এই মজুমদারই কি ভবানন্দ মজুমদার? ছড়ার পরের অংশ ধেয়ে এল দামোদর, দামোদরের হাঁড়ি কুড়ি, গোয়ালে বসি ধান ভাঙ্গি। আপাত দৃষ্টিতে ছড়াটি অর্থহীন।কিন্তু ইতিহাসের কিছু যোগসূত্র থেকে গেছে।১২৩০ খ্রিষ্টাব্দে দামোদরের বন্যায় অনেক গরীবের ঘরবাড়ি, হাঁড়ি কলসি ভেসে যায়। চামে কাটা মজুমদার বলতে কি ভবানন্দকে চামার হিসেবে বিশেষণে ভূষিত করা হয়েছিল?

ছেলেবেলার খেলার ছড়া
ইকিড় মিকিড় চাম চিকির,,, এর সঙ্গে ইতিহাসের কি কোনো যোগসূত্র আছে?
প্রশ্ন ওঠে কেন? তথ্য বলছে ভবানন্দ বারোভূঁইয়াদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন আকবর সেনাপতি মানসিংহকে বারোভূঁইয়াদের বিদ্রোহের গোপন তথ্য পাচার করতেন।কেটে এই ভবানন্দ? ভবানন্দ ছিলেন কৃষ্ণনগরের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের v পূর্বপুরুষ। দিল্লির মসনদে তখন আকবর বাংলার বিদ্রোহ দমনে। আকবর বারবার বাংলায় পাঠাতেন সেনাপতি মানসিংহকে। ভবানন্দ কোন স্বার্থে বারোভূঁইয়াদের বিদ্রোহের গোপন তথ্য তুলে দিতেন সেনাপতি মানসিংহকে? সেসব বলব পরের পর্বে। (চলবে)
