শিরোনাম

বেশ্যার বারোমাস্যা

মৃচ্ছকটিক নাটকে বাসবদত্তা ( বাঁদিকে কল্পিত ছবি) ডানদিকে এই কাহিনী অবলম্বনে উৎসব ছবিতে বাসবদত্তার ভূমিকায় অভিনেত্রী রেখা।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : বৌদ্ধ জাতকের বেশ্যা বিবরণ আলোচনা করছি। সালবতীর কন্যা সিরিমা। তিনি ছিলেন বুদ্ধভক্ত। ধম্মপদ অট্ঠককথায় (৩/৩০৮/-৯) আছে যে , তার প্রতি আসক্ত ব্যক্তিদের বন্ধুবর্গের ভোগের জন্য সে পাঁচশ গণিকা পোষণ করতে। কথিত আছে, তার রূপমুগ্ধ জনৈক ভিক্ষু ভোজনার্থে তারু ভোজনাগারে উপস্থিত হলে রোগার্তা সিরিমাকে সেখানে আনা হ’ল; ঐ স্থানেই তার মৃত্যু হয়। দিব্যাবদানে মথুরার গণিকা বাসবদত্তার কাহিনী আছে। উপগুপ্তের রূপ ও গুণের কথা শুনে চাপলায় প্রণোদিত্য বাসবদত্তা তাঁকে আহ্বান করে। উদ্দেশ্য প্রেম । উপগুপ্তকে তার সঙ্গসুখের জন্য মূল্য দিতে হবে না। উপগুপ্তের উত্তর যে, তিনি যেতে অক্ষম।

মৃচ্ছকটিক নাটকের বঙ্গানুবাদ গ্রন্থের প্রচ্ছদ।

সুরেশচন্দ্র বন্দোপাধ্যায় ও রমলাদেবী লিখিত ভারতীয় সমাজে প্রান্তবাসিনী গ্রন্থে এই প্রসঙ্গে বেশকিছু তথ্য সংযোজন করেছেন। মৃচ্ছকটিক নাটকে উল্লেখিত আছে, এক ধনাঢ্য অশ্ববণিক বাসবদত্তার সঙ্গলাভের জন্য তার কাছে পাঁচশ পুরাণ নামের মুদ্রা প্রেরণ করেন। লোভ সংবরণ করতে না পেরে বাসবদত্তা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এবং তাকে হত্যা করে মৃতদেহ শৌচাগারে নিক্ষেপ করে। রাজা এই সংবাদ শুনে তার হস্ত পদ ও নাসিকা ছেদনের আদেশ দেন। বাসবদত্তা কে নগরের দূরে শ্মশানের নিকট ফেলে রাখা হয়। এই সংবাদ শুনে উপগুপ্ত তার কাছে যান। যৌবনমদমত্তা গণিকার রূপ নয়, কামের চরম পরিণতি সন্ন্যাসীকে আকৃষ্ট করেছিল।

বৈশালীর নগরবধূ আম্রপালী।

বোধিসত্ত্বাদানে কল্পলতা অবলম্বনে রচিত অমরকবি রবীন্দ্রনাথের অভিসার কবিতায় বাসব দত্তাকে কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত টিপেই অমর হয়ে আছে। বৌদ্ধ সাহিত্যে প্রসিদ্ধ আম্রপালীর ( পালিতে অম্বপালী) জন্ম হয় বৈশালীর ভি রাজকীয় উদ্যানে। উদ্যানপালক তাঁর ভরণপোষণ করে বলে তাঁর এই নামকরণ হয়েছিল। তিনি বিয়ে না করে রাজসভার নর্তকী হন। (চলবে)

পরবর্তী পর্ব আগামী শুক্রবার ২২ মে,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *