*


দিগদর্শন ওয়েব ডেস্ক: বাঙালির ভূতেরাও খাদ্য রসিক। ঢেঁকির যেমন স্বর্গে গিয়েও ধান ভাঙে তেমন বাঙালি ভূতেরাও ক্ষেতের ভালোবাসে। ইলিশ মাছ তো ভীষণ প্রিয়। তবে ষোলো শতকের কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে ভূতেদের যেসব খাবারের বাজারের কথা বলেছেন যেমন মাংসের পিঠের, রক্তের মদ, মানুষের হাড় দিয়ে ভাত বা মানুষের মগজের ঘিলু দিয়ে তৈরি ঘি ইত্যাদি এসব তো মরার পরে খাদ্য।
আজকাল ভূতেরা বেঁচে থাকাকালীন যেসব খাবারের খেয়ে সুখী হতেন সেই অভ্যাসেই নিজেদের মানিয়ে নিয়েছেন।না হলে ভূতের রাজা দিল বর রেস্তোরাঁর কর্ণধার রাজীব পাল সেই গুপি বাঘার খাদ্য তালিকা কেন হাজির করবেন? সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া বাঙালির আটপৌরে পদের সমাহার।৩১ অক্টোবর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত অন্যান্য আউটলেটের সঙ্গে সেক্টর ফাইভ কলেজমোড়ের কাছে আউটলেটে মিলবে ভূতের কালো ভাত।
ভাববেন না এই ভাত শুধু ভূতেদের প্রিয়। ভারত, বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড,ইন্দোনেশিয়ায় মেলে সদর ভাতের চেয়ে অধিক আমিষ, ফাইবার, ভিটামিন এ বি। জিংক সহ অন্যান্য খনিজ পদার্থ তিনগুণ বেশি। কেজি প্রতি এদেশে দাম ২৫০/৩০০ টাকা। ডায়বেটিস রোগীদের জন্য সেরা। ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। অতীতে রাজপরিবারের খাদ্য সাধারণের কাছে নিষিদ্ধ ছিল।
ভূত চতুর্দশী পাবনে থাকছে চোদ্দ শাক। শাকচুন্নির মাথা দিয়ে ডাল। ভূতুড়ে আলুভাজা, পোড়োবাড়ির সবজি , মামদো ভূতের চিংড়ি ভাপা, মেছো ভূতের পাবদা সর্ষে, প্যাঁচাপেঁচির পোলাও, হানাবাড়ির মুরগি কষা,, পিশাচির পায়েস অবশ্যই অশরীরী পান। এছাড়াও ব্রহ্মদত্যি থালি, পেত্নি থালি এবং চোদ্দ ভূতের থালি। বাড়তি পাওনা ভৌতিক পরিবেশ, গুপি বাঘার গান এবং জ্বলজ্যান্ত শাকচুন্নি, পেত্নি, ভূত ও মামদো ভূতের উপস্থিতি। আপনাকে যাঁরা সাদর সম্ভাষণ জানাবে।
রইল ভাইফোঁটার কথা। ভাইফোঁটার সামগ্রী এখানেই পাবেন। সঙ্গে ভাইয়ের পছন্দের মেনু। সাংবাদিক সম্মেলনে কর্ণধার রাজীব পাল জানালেন, বাঙালি হ্যালোইন ডে পালন করে। আজকের প্রজন্ম জানে না ভূত চতুর্দশী। তাই বিলুপ্ত প্রথা ফিরিয়ে আনার এক প্রচেষ্টা নেওয়া হচ্ছে কয়েকবছর ধরে। এবার সেক্টর ফাইভ আউটলেট শুরু এপ্রিল মাসে। তাই এবার এই আউটলেটে ভূতচতুর্দশী।
কিন্তু এখানে একটা কথা আছে। ভূত চতুর্দশী একটি লৌকিক উৎসব। মৃত্যু, স্বর্গ নরক, অলৌকিক ভূত প্রেত বিজ্ঞান বিরুদ্ধ। সেখানে এক কালো শাড়ি পরিহিতা পিশাচসিদ্ধা কে হাজির করে হাস্যকর কুসংস্কারকে প্রমোশন করা কতটা হিতকর , প্রশ্ন থেকেই যায়।
অস্বীকার করার উপায় নেই ইউরোপে ওয়াইহা বোর্ড বসিয়ে প্রেতচর্চা চলছে। রোমের ভ্যাটিকান জানিয়েছে, হ্যালোইন উৎসব আসলে শয়তানের আরাধনা। ঈশ্বরে সমর্পিত মানুষের শয়তানের উৎসব পালন দুর্ভাগ্যজনক। নরওয়ের হিউম্যানিস্ট এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান টম হেডম্যান বলেছেন, কর্পোরেট দুনিয়া ধর্ম শেষের পর্যায়ে যাচ্ছে দেখে আধুনিক মনকে প্রভাবিত করছে অলীক কল্পনায়। তাঁরই কি সুলভ সংস্করণ? জেনে না না না জেনে? প্রশ্ন থেকেই যায়।
