পর্ব:২৫০

লর্ড রবার্ট ক্লাইভ।
সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: রাজমহল পাহাড় থেকে মেদিনীপুরের দাঁতনের দূরত্ব ৫ হাজার মাইল। এই বর্ধমান রাজপরিবারে সঙ্গে মিত্রতা ছিল মুর্শিদাবাদের নবাবের। এই যোগসূত্রের কাজটা করতেন মানিকচাঁদ। কিন্তু মারাঠা বর্গিদের চোরাগোপ্তা আক্রমণ থেকে পরিবারকে বাঁচাতে বর্ধমানের প্রাসাদ ও গৃহ দেবতা রাধাকান্তকে ছেড়ে মুর্শিদাবাদ চলে আসেন মানিকচাঁদ। আলীবর্দীর সময় থেকেই মুর্শিদাবাদের নবাবের সেনানায়ক হন মানিকচাঁদ।
মানিকচাঁদ কলকাতার শাসনভার নিয়ে বেহালায় এক দুর্গের মত বাগানবাড়ি বানিয়ে নিজের শাসন কেন্দ্র ও বসতবাড়ি বানান।১৭৪৭ খ্রিস্টাব্দে জানুয়ারি মাসে লর্ড ক্লাইভ ও ওয়াটসন কলকাতা আবার পুনরুদ্ধার করলে মানিকচাঁদকে প্রস্তাব দেন বি ইংরেজদের সাহায্য করতে। কিন্তু সেদিন মানিকচাঁদ সিরাজের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে অস্বীকার করেন। এমনকি ১৭৫৭ সালের জুন মাসে পলাশীর প্রান্তরে সিরাজের পক্ষে লড়েন। কিন্তু সিরাজ পরাজিত হওয়ায় লর্ড ক্লাইভ এই মানিকচাঁদের সাহায্য নিয়েই বর্ধমানের রাজার সঙ্গে মৈত্রী স্থাপন করেন। আজও বর্ধমান জেলার দাঁইহাটে দেওয়ানগঞ্জ ও গঙ্গার তীরে মানিকচাঁদের ঘাট আজও আছে। বর্ধমান রাজবাড়ির এককোণে মানিকচাঁদের খণ্ডহর প্রাসাদ ও কুল দেবতার মন্দির।

সিরাজদৌল্লা।
মাত্র একটি বছরের বএকটু বেশি সময় সিরাজ রাজত্ব করলেও বাংলার নবাবদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বিতর্কিত বটে। সিরাজের আর এক প্রেম কাহিনীও আছে ইতিহাসের পাতায়। (চলবে)
