বেশ্যার বারমাস্যা

পর্ব :২৫৭

অক্ষয় দত্ত।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : অক্ষয় দত্ত মহাশয় হিন্দু সেক্টস নামক গ্রন্থে এই সম্প্রদায়ের বিবরণ প্রসঙ্গে লিখেছেন যে এদের উৎসবে গীতা কোরআন ও বাইবেল পঠিত হয়। এই গ্রন্থকারের মতে, রাধাবল্লভী নামে এক বৈষ্ণব সম্প্রদায় ছিল; কিন্তু বহুদেশেই এর বিশেষ প্রভাব ছিল না। স্পষ্টদায়ক সম্প্রদায়ে স্ত্রীলোকের প্রাধান্য ছিল: কিন্তু নরনারীর অবৈধ যৌনসম্ভোগ ছিল না। সখীভাবক সম্প্রদায়ের পুরুষেরা স্ত্রীলোকের নাম ধারণ করে কৃষ্ণ ও চৈতন্যের উদ্দেশ্যে নৃত্যগীত করিতেন।

বৈষ্ণববাদের বেশ কয়েকটি ধারা আছে।

বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের কয়েকটি ধারা সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে সুরেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ও রমলাদেবী তাঁদের ভারতীয় সমাজের প্রান্তবাসিনী গ্রন্থে লিখেছেন, নদীয়া জেলার দেবগ্রামের নিকটবর্তী ভাগা গ্রামের খুশি বিশ্বাস নামক একজন মুসলমান কর্তৃক প্রবর্তিত। এই সম্প্রদায়ে খুশি বিশ্বাস চৈতন্যের অবতার রূপে পরিগণিত। এরা জাতিভেদ মানে না। বিভিন্ন জাতির লোক পরষ্পরের মুখে অন্নাদি অর্পণ করে।

গৌরবাদী বৈষ্ণবরা বলরামকে রামচন্দ্র হিসেবে মানেন।

গৌরবাদী এরা অন্তরে গৌরাঙ্গকে শ্রীকৃষ্ণ অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ মনে করে। নদীয়া জেলান্তর্গত মেহেরপুর গ্রামবাসী বলরাম হাড়ি একটি সম্প্রদায়ের প্রবর্তক ম এই সম্প্রদায়ের। লোকেরা বলরামকে স্বয়ং রামচন্দ্র বলে মনে করে। এই ধর্মাবলম্বীরাও জাতিভেদ মানে না। (চলবে)

পরবর্তী পর্ব আগামী ৫ অক্টোবর, সোমবার,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *