শিরোনাম

বেশ্যার বারমাস্যা

পর্ব:২৪৯

দুর্গোৎসবে বাঙালি বাবুর বাড়িতে বাই নাচ ছিল সম্মানের প্রতীক।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: ১৮৩২ সালের জ্ঞানান্বেষণ পত্রিকায় প্রকাশ , দুর্গোৎসবে বাইনাচ হ’ত এবং গলিতে গলিতে বেড়াতেন বাইজিরা। তথ্য এও বলছে কারও কারও বাড়িতে পাঁচ সাত তরফা বাই থাকত।১৮৩৯ সালে এই পত্রিকায় আরও যে তথ্য প্রকাশ হয়, যে দুর্গোৎসব ও অন্যান্য পরবে যবন নারীরাও নাচত। যবন বলতে মুসলিমদের কথা বলা হয়েছে। বারাঙ্গনারা নিজেরাও পুজোর আয়োজন করত।৩০ আগস্ট ১৮৪৬ সালে সম্বাদ ভাস্কর পত্রিকায় এই খবর প্রকাশ হয়।১৮৫৬ সালের ১ নভেম্বর প্রকাশিত। এই পত্রিকায় সম্পাদকীয়তে লেখা হয় কালী পুজোর।পরদিন কালী প্রতিমাকে হাটে বাটে বেশ্যাদের দেখানোর। জন্য আনা হ’ত।

আজও খেমটা নাচের প্রচলন আছে।

১২৭১ বঙ্গাব্দের ২১ বৈশাখ তারিখে প্রকাশিত সোম প্রকাশ পত্রিকার চিঠি। থেকে জানা যায় রাসমেলা উপলক্ষ্যে রাত্রিবেলা খেমটা নাচ হ’ত। নর্তকীরা নৃত্য পরিবেশনের চেয়ে ব্যস্ত থাকত বাবুদের চোখের ইশারায় কাবু করার দিকে। উদ্দেশ্য তো আর্থিক লাভ। উপসংহারে পর লেখক মন্তব্য করেন শাস্ত্রে কি বেশ্যার নৃত্য পূজার অঙ্গ বলে নির্দিষ্ট হয়েছে?১২৯৩ বঙ্গাব্দের ২৯ আষাঢ় তারিখের সোমপ্রকাশ পত্রিকার পাতায় প্রকাশ হয় বারোয়ারি উৎসবের বর্ণনা প্রসঙ্গে । বলে হয় প্রায়ই মদ , বেশ্যা ইত্যাদিদের নিয়ে বারোয়ারি পান্ডাদের আমদপ্রমোদ হয়।

১৯ শতকের শেষে কলকাতায় বেশ্যাবাড়ি।

১৮৬৩ সালের সোমপ্রকাশ পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে মদ ও বেশ্যা নিয়ে শহরে কিছুটা বাড়াবাড়ি হয়, সেই পত্রিকায় লেখা হয় কথকদিগের অনেকে লম্পট স্বভাব হন , এক্ষণকার শ্রোতাগণের মধ্যেও বেশ্যা, অসতী ও লম্পটই বাহুল্য পরিমাণে দৃষ্ট হইয়া থাকে।
(চলবে)

পরবর্তী পর্ব আগামী সোমবার ৭ সেপ্টেম্বর,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *