শিরোনাম

বাঙালির ইতিহাস ও বহিরাগত তত্ত্ব

পর্ব:২৩৩

বাহাদুর শাহ।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : ১৭৩২। ভারতে তখন দ্রুত রাজনৈতিক পরিবর্তন হচ্ছে।আওরঙ্গজেবের পর সিংহাসনে বসেন বাহাদুর শাহ। তাঁরশাসনকাল ছিল ১৭০৭ থেকে ১৭১২ খ্রিস্টাব্দ। পিতা আওরঙ্গজেব বেঁচে থাকতেই তিনি কয়েকবার বিদ্রোহ করেছিলেন সিংহাসন দখলের জন্য। কিন্তু মোঘল সাম্রাজ্য হাতে এলেও ক্ষমতা দুর্বল হতে থাকে।

জাহানদার শাহ।

বাহাদুর শাহের মৃত্যুর পর তাঁর দুই পুত্র জাহান্দার শাহ ও আজিম উস খান নিজেদের মধ্যে বিবাদে লিপ্ত হন। ভাই আজিমকে হত্যা করলেও সিংহাসন দখলে রাখতে পারেন মাত্র ১১ মাস। এই সময়েই তিনি বিয়ে করেন নর্তকী লাল কুনোয়ারকে। নাচ গান বিলাস ব্যাসনেই মেতে ছিলেন। অচেনা ঘাতকের হাতে ১৭১৩ খ্রিস্টাব্দের ১১ ফেব্রুয়ারি খুন হন।১৭১৯ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সিংহাসনে আসীন হন মুহম্মদ শাহ। সম্পর্কে তিনি ছিলেন বাহাদুর শাহের নাতি। তাঁর সময়েই দুর্বল মোঘল সাম্রাজ্য ভেঙে টুকরো টুকরো হয়। এরমধ্যেই চতুর্দশ মোঘল সম্রাট হয়েছিলেন মুহাম্মদ ইব্রাহিম। তিনি বিদ্রোহেই সিংহাসনচ্যুত হন। মুহাম্মদ শাহের মৃত্যুর পর দিল্লির সিংহাসনে বসেন আহমেদ শাহ বাহাদুর। তিনিও মাত্র ৪৯ বছর বয়সে মারা যান।

মুহাম্মদ নাদির শাহ।

ফিরে আসি বাংলায়। দিল্লির সিংহাসন যখন ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে পারস্যের সম্রাট নাদের শাহ মোগল সিংহাসনের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দেন। পারস্যের নেপোলিয়ন নামে খ্যাত নাদের শাহ ১৭৩৯ খ্রিস্টাব্দের ২৪ ফেব্রুয়ারি দিল্লি থেকে ১১০ কিলোমিটার দূরে হরিয়ানার কর্নাল প্রদেশে পৌঁছে যান। প্রবল যুদ্ধ হয় মোঘল সম্রাট আহমেদ শাহ বাহাদুরের সঙ্গে। নাদের শাহের হাতে বন্দি হন তিনি। সেই বছরের মার্চ মাসের ১১ তারিখ নাদের শাহ দিল্লিতে পা রাখেন। (চলবে)

পরবর্তী পর্ব আগামী শনিবার ৮ আগস্ট,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *