শিরোনাম

বেশ্যার বারমাস্যা

পর্ব:২৩৮

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : সুরেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ও রমলাদেবী এই দুই লেখকদ্বয় তাঁদের ভারতীয় সমাজে প্রান্তবাসিনী গ্রন্থে ধর্মমঙ্গল গ্রন্থের বিবরণ দিয়েছেন বিস্তারিতভাবে। তাঁদের এই গ্রন্থের বঙ্গ বারাঙ্গনা নিবন্ধে লিখেছেন,,,, লাউসেন তাদের সনির্বন্ধ অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করলে এক নারী তাকে বলে যুবা হয়ে কেন বল বুড়ার বচন, যুবতী যৌবন লুঠ, উঠ প্রাণধন রতিরঙ্গ অনঙ্গ আবেশে রবে সুখে, আপনি সাজিয়া পান তুলে দিব মুখে।

শিল্পীর কল্পনায় লাউসেন লৌকিক দেবতা ধর্মঠাকুরের পাঁচালী শুনছেন কথক ঠাকুরের মুখে।

অসতী নারী কর্তৃক নায়কের সেবায় বর্ণনা –
পাগল হইয়া কেহ রয় কাছে কাছে। তাল মান গানেতে নাচায় কেহ নাচে।। তাম্বুল যোগায় কেহ কেহ চাপে পা। কেহ কেহ চামরে করিছে মন্দ বা। পরম সুন্দর পেলে নানা দ্রব্য ঠাটে। আপনি সুরিক্ষা সেবে সুবর্ণের খাটে।।

বঙ্গ বারাঙ্গনা।

উক্ত অসতী রমণীরা সুচতুর।পরপুরুষের প্রতি নিজেদের আসক্তির সমর্থনে তাঁরা উদাহরণ স্বরূপ উল্লেখ করে ধীবরনন্দিনীর প্রতি পরাশর মুনির মোহ, অজামিলের বেশ্যাশক্তি , অবিবাহিতাবস্থায় কুন্তীর গর্ভধারণ প্রভৃতি । তারা মনস্তত্ত্বে অভিজ্ঞ ছিল। নরনারীর পারস্পরিক আকর্ষণের স্বাভাবিকতা বোঝাতে তাদের একজন বলেছে ঘৃতের কলস নারী পুরুষ অনল। একযোগে থাকিলে অবশ্য করে বল। (চলবে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *