পর্ব: ২২৭

ফরাসি পর্যটক জ্যা ব্যাপটিস্ট টার্ভানিয়ার।
সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: শায়েস্তা খাঁ আরকান দস্যুদের রুখতে ইংরেজ বণিকদেরও সাহায্য চেয়েছিলেন। কিন্তু ইংরেজরা রাজনীতিতে জড়াতে চায় নি। শায়েস্তা খাঁ ইংরেজদের অসহযোগিতায় বেশ অসন্তুষ্ট হন। আসলে ইংরেজরা শায়েস্তা খাঁয়ের শাসনে খুশি ছিল না। এই বিষয়ে স্পষ্ট লেখনী মেলে ইউরোপীয় তৎকালীন পর্যটক জ্যা ব্যাপিস্ট ট্যাভার্নিয়ারের কলমে। তিনি লিখেছিলেন, শায়েস্তা খাঁ বাংলার সুবেদার হয়ে ঢাকায় আসতেই ইংরেজ বণিকরা তাঁকে অভ্যর্থনা জানান সোনার ফিতে জড়ানো একটি জমকালো পোশাক ও পান্না খচিত একটি চাদর উপহার দিয়ে। কিন্তু বছর ঘুরতেই সেই ইংরেজদের কাছ থেকে তিনহাজার টাকা কর আদায় করে নেন। কোন ছাড় দেননি।৪৩ শতাংশ থেকে শায়েস্তা খাঁ এর আমলে কর বেড়ে দাঁড়ায় ৬৪ শতাংশ।

ইংরেজ বনাম মোঘল সেনার যুদ্ধে পরাজিত জব চার্ণক মাদ্রাজ পালিয়ে যান।
যদিও সেই সময়ে এক টাকায় ৮ মণ চাল মিলত। কিন্তু প্রজারা রাজস্ব দিতে গিয়ে ফতুর। প্রজাদের ক্রয় ক্ষমতা ক্রমশ কমতে থাকে।১৬৮৬ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ বণিকরা ইংল্যান্ড থেকে জাহাজে সৈন্য আমদানি করে। শায়েস্তা খাঁ খবর পেয়ে তিনিও বন্দর সংলগ্ন স্থানে সৈন্য সমাবেশ করেন। তিনজন ইংরেজ সেনা ঢাকায় শায়েস্তা খাঁয়ের সেনাদের হাতে প্রহৃত হলে গণ্ডগোল শুরু। ইংরেজ সেনারা এবার মোঘল সেনার বিরুদ্ধে পথে নামে। সুবাদারের সেনারা ইংরেজদের কুটির ও ছাউনিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ইংরেজরা বাধ্য হয় ঢাকা ছেড়ে কলকাতায় ফিরে যেতে। যাওয়ার পথে ঢাকায় অবাধ লুঠপাট চালায়। কলকাতায় সুতানুটিতে ফিরলেও জায়গাটা নিরাপদ নয় ভেবে জব চার্ণক ওড়িশায় গিয়ে মোঘলদুর্গ দখল করেন।

বালেশ্বর দুর্গ
কিন্তু বিধি ছিল বাম । শায়েস্তা খাঁ মেদিনীপুরের হিজলি থেকে ১২ হাজার সেনা নিয়ে বালেশ্বর দুর্গ আক্রমণ করেন। একদিকে ম্যালেরিয়ার আক্রমণ , অন্যদিকে দুর্গ ঘিরে মোঘল সেনা। খাদ্যের অভাব। বিপদ বুঝে জব চার্ণক ইংরেজ সেনাদের নিয়ে বালেশ্বর দুর্গ ত্যাগ করে মাদ্রাজ চলে যান। লক্ষ্য চট্টগ্রাম দখল জলপথে। ইতিমধ্যে অবসর নিয়ে শায়েস্তা খাঁ দিল্লি ফিরে যান। (চলবে)
