বাঙালির ইতিহাস ও বহিরাগত তত্ত্ব

ভবানন্দ মজুমদার।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : ঐতিহাসিক তথ্য বলছে, আকবরের সেনাপতি মানসিংহ যখন সসৈন্যে বাংলায় প্রবেশ করেন তখন দামোদর নদ পেরোতে এই ভবানন্দ কয়েক’শ নৌকা ব্যবস্থা করে দেন মোঘল সেনাদের নিয়ে আসতে। এমনকি রসদ জোগাড় করার দায় তিনি নিয়েছিলেন। বারোভূঁইয়ার সবচেয়ে প্রতিপত্তিশালী হিন্দু রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখার নায়ক প্রতাপাদিত্যকে বন্দী করতে মোঘল সেনাপতি মানসিংহকে সাহায্য করেন। প্রশ্ন ওঠে, মোঘল সেনাপতি মানসিংহকে ভবানন্দ মজুমদার ওরফে ভবানন্দ কানুনগো। আরও যদি পিছিয়ে যাওয়া যায় দেখব ভবানন্দ কানুনগো আগে পরিচিত ছিলেন দুর্গাদাস সমাদ্দার নামে। ভবানন্দের পিতা ছিলেন, রামচন্দ্র রায়। বাংলাদেশের বাগোয়ান পরগণায় জমিদার হরেকৃষ্ণ সমাদ্দারের আশ্রিত ছিলেন। ভবানন্দ মজুমদারের পূর্ণ পরিচিতি জানতে আর একটু পিছিয়ে যেতে হবে।

শিল্পীর তুলিতে বাংলায় আসা ব্রাহ্মণদের আদিপুরুষ আদিশূর।

নদীয়ার রাজবংশ আদিশূরের কনৌজ থেকে আনা পাঁচ ব্রাহ্মণের অন্যতম ক্ষিতীশের পুত্র ভট্টনারায়ণের বংশধর। ভট্টনারায়ণের ১১ তম পুরুষ ছিলেন কামদেব। কামদেবের পুত্র চারজন। বড় ছেলে বিশ্বনাথ,১৪০০ খ্রিষ্টাব্দে দিল্লি গিয়ে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে রাজ উপাধি ও প্রভূত সম্পত্তির অধিকারী হন। বিশ্বনাথের পুত্র কাশীনাথ হন পরবর্তী রাজা। তিনি এক গুপ্তঘাতকের হাতে খুন হন তাঁর সন্তানসম্ভবা স্ত্রী বাগোয়ানের জমিদার হরেকৃষ্ণ সম্মাদারের কাছে আশ্রয় পান।

কৃষ্ণনগরের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পূর্বপুরুষ ভবানন্দ মজুমদার।

হরেকৃষ্ণ সমাদ্দারের আশ্রয়েই জন্ম নেন রামচন্দ্র। জমিদার নিজে ছিলেন নিঃসন্তান। তাই আশ্রিত রামচন্দ্রকে সমাদ্দার পদবীতে রূপান্তরিত করে সম্ভবত দত্তক নিয়ে তাঁর জমিদার দিয়ে যান। রামচন্দ্রের ছিল চার ছেলে। দুর্গাদাস, জগদীশ, হরিবল্লভ ও সুবুদ্ধি। দুর্গাদাসের পরবর্তী নাম ভবানন্দ। দিল্লির সিংহাসনে তখন জাহাঙ্গীর। ইতিমধ্যে ঢাকার নবাবের কাছ থেকে ভবানন্দ রায় ওরফে ভবানন্দ সমাদ্দার ওরফে ভবানন্দ কানুনগো ওরফে ভবানন্দ মজুমদার পদবীতে পরিবর্তন আসলে সাফল্যের নমুনা। (চলবে)

পরবর্তী পর্ব আগামী শনিবার ৬ আগস্ট,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *